মিশরের পথে কি বাংলাদেশ?

ছাত্র, আলেম সমাজ, তাওহীদী জনতা, সাধারণ জনতার ব্যাপক আন্দোলনের ফলে মিশরে স্বৈরশাসক হোসনি মুবারক পদত্যাগ বা ক্ষমতা পতন ঘটে। হোসনি মুবারককে কারারুদ্ধ করা হয়, মূলত তাকে রক্ষা করার ষড়যন্ত্র হিসেবে। জালেমের পতনে মানুষের মনে ব্যাপাক আশার জাগরন ঘটে – মানুষ ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়।

পশ্চিমারা গভীর ষড়যন্ত্রের ছক কষে- হোসনি মুবারকের পতন ঘটলেও তার রেখে যাওয়া সেনা, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হাতে ক্ষমতা থেকে যায়। উল্লেখ্য মিশরের  সেনাবাহিনী আনোয়ার সাদাতের গড়া বাহিনী ছিল। যাকে শান্তিতে নোবেল দিয়ে বিশ্বে পরিচিত করা হয় – ইসরাঈলের সাথে বন্ধুত্ব বা পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিনিময়ে। আনোয়ার সাদাতের মৃত্যুর পর তার শিষ্য হোসনি মুবারক ক্ষমতায় আসে।

মিথ্যা নাম মাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বার বার নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করতেন। হোসনি মুবারকের পতনের পর – মিশরের সেনাপ্রশাসন ইসলাম প্রতিষ্ঠা চাওয়া জনগনকে দুভাগে বিভক্ত করে – একভাগ যারা রসুলের (সা:) সুন্নাহ মেনে শরীয়া চায়। আরেকভাগ পশ্চিমা ও তাদের রেখে যাওয়া সেনার অধীন গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখায় এমন রাজনৈতিক দল।

প্রথম দলকে তারা উগ্রবাদী আ্যখা দিল আর গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবি রাখা দলের নেতাকর্মীদের সৎ, আধুনিক, নীতিবান প্রচার করতে লাগলো। বিভিন্ন টকশো, আলোচনা সভায় এসকল রাজনৈতিক দলের নেতাগনকে অংশগ্রহণ করানো হতো- ওদের নারী সংসদ সদস্য ইসলামের দৃষ্টিতে নিষেধ, পর্দা ফরজ, ধর্মত্যাগ করলে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হতো।

পশ্চিমাদের সমর্থন পেতে – তারা নারী সংসদ সদস্য বর্তমানে জায়েজ, তারা ক্ষমতা গেলে পর্দাকে ঐচ্ছিক ঘোষণা করবে। ধর্মত্যাগ, রসুলের (সা) গালিদাতার শাস্তি নিয়ে মতবিরোধ আছে তাই এই শাস্তি বর্তমানে দেওয়া যাবে  না ঘোষণা করে।

বর্তমানে বাংলাদেশে কি এরূপ চলছে?

ফলে তাওহীদপন্থীরা মুরসীর রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে থাকে। ফলে উভয়ের মধ্যে তিক্ততা চরম পর্যায়ে পৌছে। নির্বাচনে মুরসী বিজয়ী হলেও প্রকৃত ক্ষমতা থেকে যায় সেনাপ্রশাসনের কাছে।

ওরা প্রথমে গণতন্ত্রকে অস্বীকার করে শরীয়া চাওয়া – আলেম, যুবকদের জেল, ফাসি দিতে থাকে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান পরিচালিত হয়। আর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও নামমাত্র ক্ষমতা পাওয়া মুরসী মনমতো শরীয়া আইন আনতে পারেনি, দুর্নীতি দমন করতে পারেনি।ফলে মুসলিম হত্যা, দুর্নীতি, আলেমদের কারারুদ্ধ করা সকল কিছুর ক্ষোভ উঠে মুরসী ও তার দলের বিরুদ্ধে।

ফলে তাওহীদী জনতা, ছাত্র, সাধারণ জনগণ আবার আন্দোলনে ফুসে উঠে। যে জনগন হোসনি মুবারককে ঘৃণা করে, মুরসী তার দলকে ভালোবেসেছিল। তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে পরিচিত হলো মুরসী। হোসনি মুবারকের সকল অপকর্ম যেন জাতি ভুলে গেল।

পশ্চিমা ও সেনাপ্রশাসন এই সুযোগ কাজে লাগায়। মুরসীকে ক্ষমতাচূত করে জেল ও পরে ফাসি দেওয়া হয়। একদিকে সেনাপ্রশাসন মুরসীকে ফাসি দিয়েছিল। আর সাবেক জালেম শাসক হুসনি মুবারক কারামুক্তি লাভ করে।ঘুরেফিরে ও সেনারা ক্ষমতায়।

হাদীস অনুযায়ী –

মিশর ধ্বংস হবে নীলনদী শুকিয়ে যাবে, ক্ষুধা ও রক্তপাত দেখা দিবে। মিশর ধ্বংস হওয়ার পর জাযিরাতুল আরব ধ্বংস হবে (সৌদি, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, আরব আমিরাত)। (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান- খন্ড-৪, পৃ-৯০৭, মুসলিম)। মিশরে নীলনদী প্রবাহের উৎস হল ইথিওপিয়ার ব্লু নাইল।

সেখানে দীর্ঘদিন হতে বাধ পশ্চিমারা  নির্মান করছিল, এখন প্রায় শেষ। এ বাধ চালু হলে মিশরে পানিপ্রবাহ বন্ধ হবে ও শুকিয়ে যাবে। ২০১৩ সালে মুরসী বাধ নির্মান বন্ধ করার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করবে বলার কিছুদিন পর সামরিক অভ্যুথানে তার পতন হয়।

ইসরাইল বন্ধু  মিশর ফিলিস্তিন ইস্যুতে আজও নিরব।

পাক, বাংলাদেশের মূল ক্ষমতা থাকে সেনাদের। তারা পশ্চিমাদের সাথে মিলে তাদের পছন্দনীয়দের নির্বাচনের নামে ক্ষমতা দেয় তাদের সকল পাপ, দুর্নীতির অংশীদার হয়। তাদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের ভাইয়েরা শান্তি মিশনে জীবন দেয় ও মুসলিমের জীবন নেয়। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে অশান্তি সৃষ্টিকারী দেশে (ইসরা-ইল) তারা কোন মিশন পাঠায় না, উল্টো মুসলিম হত্যায় পশ্চিমারা তাদের সাহায্য করে।

যখনি শাসকের জনপ্রিয়তার পতন ঘটে, জনগন তার বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হয়। সেনাপ্রশাসন ক্ষমতা হাতে নিয়ে  ত্রাণকর্তার বেশ ধরে, পশ্চিমাদের মনোনীত ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা দেয়।

সেনা অফিসারদের পশ্চিমা দেশগুলোতে সহজে ভিসা মিলে, দামী বাড়ি, ব্যবসা এই সকল দেশে থাকে। জনগন নির্বাচন চাইলে – ওরা বিভিন্ন দলের সাথে আলোচনা, শর্ত আরোপ করে। যারা তাদের শর্তে রাজি হয় – তাদের ক্ষমতা বসানোর চেষ্টা করে নির্বাচন সুষ্ঠ হোক বা চুরি। আর পশ্চিমাদের প্রতিনিধি এসে এই সরকারকে বৈধ ও নির্বাচনকে সুষ্ঠ ঘোষণা করে।

এর বিপরীত হলে অবরোধ হুমকি চলে!