গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক ও বিপরীত। তাই মুমিনের উচিত – সকল প্রকার জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক শির্ক বা স্বাধীনতার কুফর হতে দূরে থাকা অর্থাৎ এগুলো মুমিনের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ । অর্থাৎ সকল প্রকার গণতান্ত্রিক দল (তা ইসলামের নামেই হোক), জাতীয়তাবাদের চেতনার দল ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ। সুতরাং মুমিন এর বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হবে স্বাভাবিক।
তবে অর্ধ মৃত হায়েনার চেয়ে জীবিত হায়েনারা ভয়ংকর হয়। তাই সাবেক জালেম শাসকদের চেয়ে বর্তমান জালেম শাসকের বিরুদ্ধে বলা মুমিনের জন্য উত্তম জেহাদ। বার বার ক্ষমতার/জালেমের পতন ঘটে, আইন সে মানবরচিত শির্ক বিধান একই থাকে। একই আইনে নতুন শাসকরা জালেম হয়ে উঠে। ক্ষমতার বদলের সাথে সাথে প্রশাসনের লাঠিয়াল বাহিনী (সশস্ত্র বাহিনী) নতুন ক্ষমতাসীনদের আনুগত্য, চাটুকারিতা করে চলে, তাগুত শাসকের পক্ষ নিয়ে মুমিন, মুসলিমের উপর জুলুম চালায়।
তাই আমাদের সংগ্রাম হওয়া উচিত – এই সকল মানবরচিত আইন/বিধান বাদ দিয়ে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠা করা। শুধু অর্ধমৃত দল নিষিদ্ধ হলে, সকল জুলুমের অবসান হবে এই ধারণা মারাত্মক ভুল। বরং ক্ষমতাসীনদের রাজনীতির কৌশলের কাছে আপনারা বারবার পরাজয় বরণ করেন।
রসুল (সা:), সাহাবীরা (রা:) ছিল হিকমাহ সম্পন্ন। তারা শত্রুর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতেন। বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকান, হাদীস দেখুন – পাক-ভারত যুদ্ধ, ভবিষ্যতে মিশর ধ্বংস হবে, মদীনা অবরুদ্ধ হবে। আর বর্তমানে বাংলাদেশ – মায়ানমার নিয়ে কি পরিকল্পনা চলছে, কেন রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী নেতাকে বন্দী করা হয়েছে, জানুন ও জাতিকে জানান। এসব ঘটনা ঢাকতে আপনাদের দিয়ে বারবার একটার পর একটা বিষয়বস্তুকে বড় করে তোলে আর এই ফাদে বার বার আপনারা পড়েন, অতীতেও পড়েছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে কি জুলুম, চাদাবাজি, ধর্ষন বন্ধ হয়ে গেছে? ছোট একটা শিশুর ধর্ষণের বিচার কি করা সম্ভব হয়েছে? নাস্তিকরা কি রসুলের (সা:) সমালোচনা বন্ধ করেছে? ইসলাম কায়েম কি হয়ে গেছে? যুগ যুগ ধরে একই আইন দ্বারা শাসকরা জুলুম ঠিকই করে আসছে।
আজও যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠা না করে নিজেদের সেনাদের ইসলামী বাহিনীতে পরিণত করতে না পারি – তাহলে আমাদের অবস্থা হবে ফিলিস্তিন, শাম, পাকিস্তানের মত। শত্রুরা এই সুযোগে আমাদের ভূখন্ড দখলের সুযোগ পাবে।
রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- “যখনই তারা আল্লাহ ও তার রসুলের সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, তখনই তাদের বিজাতীয় শত্রুকে (আল্লাহ) তাদের উপর বিজয় করে দিবেন, ফলে তারা মালিকানাধীন অনেককিছু দখল করে দিবে। যতক্ষণ শাসক আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করবে না, আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয় কার্যকরী করবে না, ততক্ষন আল্লাহ অভ্যন্তরীন সংঘাত লাগিয়ে রাখবেন।” (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৫ম খন্ড পৃ-৩৬৩)।
সারা বিশ্বে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে হাদীসের বাস্তবতা পরিলক্ষিত হয়। কোথাও সরকারের সাথে বিরোধীদলের সংঘাত চলছে, কোথাও গৃহযুদ্ধ, কোথাও আল্লাহ ও রসুলের সাথে অঙ্গীকার (ইসলাম মেনে চলা) ভঙ্গ করার কারণে বিজাতীয় শত্রুরা অনেকটুকু ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।
বাংলা-পাক মুক্তিযুদ্ধও তার উদাহরণ। ভারতবর্ষ বিভাজন হয়েছিলো ভূখন্ডকে প্রধান্য দিয়ে নয় বরং ধর্মের ভিত্তিতে। তাই ভারত সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়া স্বত্বেও বাংলাদেশের স্থান হয় পাকিস্তানের ভাগে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ বহু নেতা ও আলেমরা ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখায় তাই ৪৭ এর বিভাজনে বাংলার বহু আলেমও পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। আর পাকিস্তান নামকরণ করা হয় মদীনা তাইয়্যেবা নাম অনুসরনে মানে পবিত্র স্থান। রাজধানী ইসলামবাদ রাখা হয় যার অর্থ ইসলামের স্থান। পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্লোগান ছিল কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
কিন্তু সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জিন্নাহসহ পাক সরকার জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র ঘোষণা করে। কুরআনের আইনের বদলে মানবরচিত সংবিধান স্থান দেয় রাষ্ট্রে।
যদি পাকিস্তান ইসলামী রাষ্ট্র হতো, তাহলে সংবিধান হতো আল কুরআন। পাক-বাংলার সবার সমঅধিকার হতো, সবাই তার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পেত, সবার পতাকা হতো কালেমরা পতাকা। পাক-বাংলার সবচেয়ে দ্বীনী জ্ঞানসম্পন্ন, তাকওয়াপূর্ণ মুসলিমরা মজলিসে শুরা অনুযায়ী শাসন ক্ষমতা পেত।
উভয়ের মুদ্রা হতো একই স্বর্ন ও রৌপ্যমুদ্রা, সবাই নিজ নিজ ভাষায় কথা বলার অধিকার রাখতো। যেহেতু কুরআনের সংবিধান অনুযায়ী শাসনকার্য চলত তাই দুদেশের দাপ্তরিক ভাষা হতো আরবি কিন্তু তা না করে মানবরচিত সংবিধান চালু করে তারা দাপ্তরিক ভাষা উর্দু ঘোষণা করে এরপর ৫২ এর আন্দোলন ও ৭১ এর যুদ্ধ তাদের আল্লাহ ও রসুলের প্রতি অঙ্গীকার ভঙ্গ ও কুরআন ব্যতীত শাসনকার্য চালানোর ফল।
ফলে কারগিল যুদ্ধে পাকিস্তান ভারতের নিকট কিছু ভূমি হারায়, চীনকে কাশ্মীরের কিছু অংশ দেয় ভারতের বিপক্ষে চীনকে বন্ধু হিসেবে রাখার জন্য। আর বাংলাদেশ হতে তারা অপমানজনকভাবে বিতাড়িত হয়।
যদি কুরআন দ্বারা শাসন করত হয়তো যুদ্ধই হতো না। আর আন্দোলন হওয়া উচিত ছিল ৫২ তে নয়, ৪৮ এ যখন সংবিধান হতে কুরআনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাহলে হয়তো আমরা ইসলামী রাষ্ট্র পেতাম। আজ দেখুন এদেশে যেদলই ক্ষমতায় আসুক বিরোধীদলসহ সাধারণ মানুষ নির্যাতিত ও অবহেলিত হয়।
কারণ মানবরচিত আইন তৈরিই হয় শাসকের সুবিধার্থে আর আল্লাহপ্রদত্ত আইন দেওয়া হয়েছে সকল মানুষের কল্যাণে। বর্তমানে খেয়াল করবেন – পাকিস্তানের অনেক প্রদেশে গৃহযুদ্ধ চলছে কুরআনের আইন ও সুষ্ঠু বিচার না থাকায়।
আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শত্রুরা তাদের ভূখন্ডে আঘাত হানার সাহস পায়। এই সুযোগে শাসকরা আমাদের ভূখণ্ড দখল করবে। এতবছর কেন ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সাহস পায়নি, এখন কেন পাচ্ছে। কারণ পাকিস্তানে জালেম শাসক, দুর্নীতি, জালেমের কারণে গৃহযুদ্ধ চলছে – সিন্ধ, বেলুচিস্তান, পাকতুখস্থানে।
এই সুযোগটাই কাফেররা নিচ্ছে!?
