একদিকে আমরা দেশকে মুসলিম বঙ্গ অভিহিত করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখাবো অন্যদিকে এলাকা, মসজিদের দেওয়ালে শির্কী নামগুলো বিদ্যমান রাখবো হাস্যকর নয় কি!?
মসজিদ, মাদ্রাসার নামে দূর্গাপুর, লক্ষীপুর, রামপুর। আজ পর্যন্ত মসজিদ হতে শিরককে মুক্ত করতে পারি নি আমরা। কিভাবে রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবো? দূর্গা ও লক্ষী শিরকী দেবীর নাম আর পুর মানে শহর। আজ কোন মুসলিম তার সন্তানের নাম যদি দূর্গা, লক্ষী, নারায়ন রাখে তাকে কাফের ফাতেয়া দেওয়ার মানুষের অভাব হবে না। অথচ আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদ ও দ্বীন শিক্ষার স্হান মাদ্রাসার পাশে এসব নাম স্হান পায় তখন সবাই চুপ। অথচ রসুল (সাঃ) ইয়াসরিবের নাম বদলে রাখেন মদীনা তাইয়্যেবা বা পবিত্র স্থান। মক্কা বিজয়ের পর কাবার মূর্তিগুলো ভেঙ্গে পেলেন। মসজিদের সভাপতি অধিকাংশ হলো তাগুতের গোলাম।
গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখায় আবার পূজার সময় বিভিন্ন পূজামন্ডপ উদ্বোধনসহ ও বিভিন্ন শিরকে সহায়তা করে। আজও আমরা মসজিদ হতে শিরকী নাম বাতিল করতে ব্যর্থ। ওরা অনেকে আমাদের আযান সহ্য করতে পারে না। অনেকে আমাদের কুরআনকে অবমাননা করে।
একদল দরবারী আলেম আছে প্রচার করে – হাসান, হুসাইন, আলী নাম রাখলে নাকি শিয়াদের অতিভক্তির অনুসরন হয় প্রচার করে অথচ এসব শির্কী নাম পরিবর্তন করলে উগ্রবাদী আ্যাখা দেয়। আমরা মসজিদ হতে শিরকী নাম বাতিল করতে ব্যর্থ। অনেকে কুরআন অবমাননা করে, তারা ইসলামের প্রতি প্রকাশ্যে ঘৃনা জানাচ্ছে আর কুফরের প্রতি আমাদের ততটা ঘৃনা আসেনি। আরবসহ সারাবিশ্বে অনেক ঝাঁকঝমকপূর্ন মসজিদ তৈরি করা হয়। যেখানে বড় বড় আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো হয় – যেন মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা যায় এই মসজিদ ইসলামের কল্যাণে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল- এইসব মসজিদে ক্ষমতাসীনদের সুবিধা অনুযায়ী ইসলাম শেখানো হয়। যে ইসলাম ও ওয়াজ প্রচার করলে তাদের জন্য সমস্যা হবে সেরকম কিছু প্রচার করলে আলেম-ওলামাদের উপর নির্যাতন শুরু হয়। এমনকি অধিকাংশ মসজিদগুলোতে প্রশাসন খুতবাও নিয়ন্ত্রণ করে।
আপনি কাদের বড় শত্রু ভাবছেন? কাফেরদের!? যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে! নাকি মুসলিম নামধারী তাদের যারা ইসলামের শত্রুদের সাহায্য করে!? বিভ্রান্ত ইসলাম প্রচার করে উম্মতকে পথহারা ও বহুদলে বিভক্ত করে দুর্বল করে তুলছে। ওরা মুসলিমদের তেল, গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করে বড় বড় প্রাসাদ, দালান, স্বর্ণের গাড়ি, জামা এমনকি স্বর্নের টয়লেট পর্যন্ত নির্মাণ করছে। অপরদিকে কাফেররা সেই একই তেল, গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করে নাসা, পারমাণবিক বোমাসহ, টেকনোলজি ও সমরাস্ত্র, অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হয়েছে।
আর আমাদের দেশে এমন অনেক মসজিদ আছে যার সভাপতির আকীদায় কুফরী, শিরক বিদ্যামান। অথচ ঈমাম অর্থ নেতা, প্রধান আর সভাপতি অর্থও নেতা, প্রধান। মসজিদের প্রকৃত সভাপতি হলো ঈমামগণ যারা সালাত পড়ান, ও ওয়াজ নসিহতে উম্মতকে পথনির্দেশনা দেন। তথাকথিত সভাপতি কি সালাত পড়াতে পারে না জুমার খুতবা দিতে পারে!? কতটুকু ইসলাম সে জানে ও মানে!? মূলত এসব সভাপতিগণ মসজিদের হিসাব, টাকা তোলা, ভবন নির্মানের দায়িত্ব পান। যাকে মূলত স্বেচ্ছাসেবক বা কেয়ারটেকার বলা যেতে পারে। কিন্তু এই নামকরণ দিলে অধিকাংশ লোক দেখানো সাহায্যকারী ধনী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ মসজিদের পদ ও দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাইবে না!
অথচ আল্লাহ বলেন-
“আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য। তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।” (সুরা তওবা ১১২-১১৩)
কেয়ামতের পূর্বে অনেক মসজিদই নির্মাণ হবে – যেখানে তাকওয়া ও দ্বীনদারিতা নয় বরং চাকচিক্যকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
● আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না মানুষ মসজিদ (কারু-কার্যকরণ) নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
সাহাবায়ে কেরাম রা. সবসময় মসজিদ সুসজ্জিত করা থেকে সতর্ক করতেন। ইবাদত, আল্লাহর স্মরণ এবং দ্বীনী শিক্ষার মাধ্যমেই মসজিদ আবাদ করার প্রতি তাগিদ দিতেন।
● ইবনে আব্বাস রা. বলেন- “অচিরেই তোমরা মসজিদগুলোকে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের মত কারুকার্য করে গড়ে তুলবে।” (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)।
মসজিদের সভাপতি বা ধনী, ক্ষমতাসীনদের খুশি করতে এমন লোকের জন্য দোয়া ও জানাজা পড়া হয় যে সারাজীবন ইসলামের বিধানকে উপহাস করেছে। ইসলামবিরোধী আইন রচনা ও প্রসার করেছে।
আল্লাহ বলেন-
“মুমিনের উচিত নয় মুশরিকদের মাগফেরাত কামনা করা, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।”
(সুরা তওবা -১১৪)
যদি সত্যিকারের ইসলাম প্রতিষ্ঠা চান মসজিদ ও ঈমামদের আগে সংস্কার প্রয়োজন -সেখানে প্রকৃত ইসলাম মানলে ও প্রচার হলে রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
