বর্তমানে দেশের নির্জীব মূর্তিগুলো জীবিত আওয়ামী লীগের চেয়ে শক্তিশালী। আলেমগন, বহুদল লাঠি, ব্যাট, স্ট্যাম্প হাতে আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে দৃঢ় অবস্থান নেয় কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা, চেতনার নামে তৈরিকৃত মূর্তি ভাঙ্গার সাহস অনেকের হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ নিঃশেষ হোক প্রশাসন চায়, সাহায্য ও প্রতিরোধের অনুমোদনও দেয়।
আর মূর্তির বিরোধিতা করলে বর্তমান প্রশাসন উল্টো ক্ষেপে যাবে, লাঠিচার্জ, গ্রেফতার করবে। অথচ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ওরা বার বার ফিরে আসে স্বাধীনতার মিথ্যা চেতনার নামে (শহীদ মিনার, স্বাধীনতা ভাস্কর্যের নামে), কুফরী গণতন্ত্র, কুফরী আইন ও বিক্রি হওয়ার প্রশাসনের নামে।
যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান এই সকল শির্ক, কুফর জাতির কাছে সুস্পষ্ট বলতে হবে। আর যদি তাগুতের ছায়াতলে শুধু সাবেক ক্ষমতাসীনদের বিরোধিতা করাই উদ্দেশ্য হয় তবে বিপদ অর্নিবার্য।
খুনী হাসিনাও স্বাধীনতার আবেগে ভাসিয়ে দিয়ে যুদ্ধাপরাধী শাস্তির নামে শুধু নিজ শত্রুদের দমন করে ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এরপর ঠিকই জেল, জুলুম করেছিল। বর্তমান তাগুত আপনাদের ব্যবহার করে তার শত্রুদের দুর্বল করে নিজেদের ক্ষমতা শক্তিশালী করবে। এরপর আপনাদের ছুড়ে ফেলবে।
গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক ও বিপরীত। গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার নাম দিয়ে একদল মন্দিরে যাচ্ছে, মূর্তিপূজার শুভেচ্ছা দিচ্ছে বিরোধিতা করলে মুসলিমকে জাহান্নামের কুকুর বলছে। দাড়ি নেই, টাখনু গিরার নিচে কাপড়। নিজ দেহে সহজ ইসলাম কায়িম করতে পারে না, ওরা রাষ্ট্রে ইসলাম কায়িমের মত কঠিন সংগ্রাম করবে বিশ্বাসযোগ্য কি!?
তাই মুমিনের উচিত – সকল প্রকার জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক শির্ক বা স্বাধীনতার কুফর হতে দূরে থাকা অর্থাৎ এগুলো মুমিনের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ সকল প্রকার গণতান্ত্রিক দল (তা ইসলামের নামেই হোক), জাতীয়তাবাদের চেতনার দল ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ। সুতরাং মুমিন এর বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হবে স্বাভাবিক।
তবে অর্ধ মৃত হায়েনার চেয়ে জীবিত হায়েনারা ভয়ংকর হয়। তাই সাবেক জালেম শাসকদের চেয়ে বর্তমান জালেম শাসকের বিরুদ্ধে বলা মুমিনের জন্য উত্তম জেহাদ।
বার বার ক্ষমতার/জালেমের পতন ঘটে, আইন সে মানবরচিত শির্ক বিধান একই থাকে। একই আইনে নতুন শাসকরা জালেম হয়ে উঠে। ক্ষমতার বদলের সাথে সাথে প্রশাসনের লাঠিয়াল বাহিনী (সশস্ত্র বাহিনী) নতুন ক্ষমতাসীনদের আনুগত্য, চাটুকারিতা করে চলে, তাগুত শাসকের পক্ষ নিয়ে মুমিন, মুসলিমের উপর জুলুম চালায়।
তাই আমাদের সংগ্রাম হওয়া উচিত – এই সকল মানবরচিত আইন/বিধান বাদ দিয়ে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠা করা। শুধু অর্ধমৃত দল নিষিদ্ধ হলে, সকল জুলুমের অবসান হবে এই ধারণা মারাত্মক ভুল। বরং ক্ষমতাসীনদের রাজনীতির কৌশলের কাছে আপনারা বারবার পরাজয় বরণ করেন। রসুল (সা:), সাহাবীরা (রা:) ছিল হিকমাহ সম্পন্ন। তারা শত্রুর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতেন।
বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকান, হাদীস দেখুন – পাক-ভারত যুদ্ধ, ভবিষ্যতে মিশর ধ্বংস হবে, মদীনা অবরুদ্ধ হবে। আর বর্তমানে বাংলাদেশ – মায়ানমার নিয়ে কি পরিকল্পনা চলছে, কেন রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী নেতাকে বন্দী করা হয়েছে, জানুন ও জাতিকে জানান। এসব ঘটনা ঢাকতে আপনাদের দিয়ে বারবার একটার পর একটা বিষয়বস্তুকে বড় করে তোলে আর এই ফাদে বার বার আপনারা পড়েন, অতীতেও পড়েছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে কি জুলুম, চাদাবাজি, ধর্ষন বন্ধ হয়ে গেছে? ছোট একটা শিশুর ধর্ষণের বিচার কি করা সম্ভব হয়েছে? নাস্তিকরা কি রসুলের (সা:) সমালোচনা বন্ধ করেছে? ইসলাম কায়েম কি হয়ে গেছে? যুগ যুগ ধরে একই আইন দ্বারা শাসকরা জুলুম ঠিকই করে আসছে।
আজও যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠা না করে নিজেদের সেনাদের ইসলামী বাহিনীতে পরিণত করতে না পারি – তাহলে আমাদের অবস্থা হবে ফিলিস্তিন, শাম, পাকিস্তানের মত। শত্রুরা এই সুযোগে আমাদের ভূখন্ড দখলের সুযোগ পাবে।
