নিউইয়র্কের মেয়র নিবার্চন কি আমাদের বিজয়?

নিউইয়র্কের মুসলিমরা ২ শতাংশ ভোটার। গণতান্ত্রিকদের গর্বের মেয়রের (নিউইয়র্ক) মা একজন হিন্দু, বাবা আশারিয়া শিয়া আর মেয়র নিজে ইসমাইলী শিয়া ও ডেমোক্রিট ধর্মের অনুসারী এবং সমকামীতার সমর্থক।

তিনি নেহরুকে আর্দশ পুরুষ মানেন। হিন্দু মায়ের সাথে পূজা দেখতে যান। সহজ বাংলা – রোযা, পূজা এক করা মানুষ। সুতরাং ২ শতাংশ ভোটে নামধারী মুসলিম মেয়র নিয়োগ হয়েছে আর এটা ইসলামের বিজয় কথাটা অযৌক্তিক। বরং বহু খ্রিস্টান, সমকামী, ইহুদি, ডেমোক্রেটিক ভোটই নির্বাচিত হওয়ার মূল কারণ। নামে মুসলিম হলেও এই সকল নেতাগণ ঠিকই  লিংকন, ওয়াশিংটনসহ তাগুত রাষ্ট্রের আদর্শ বাস্তবায়ন করবে। অথচ পশ্চিমা বহুদেশে জুমার ওয়াজে তার প্রশংসা করা হয়েছে, যেন এটা ইসলামের বিজয়। পশ্চিমা, মডারেট শায়েখদের ফিতনা হতে ফানাহ চাই।

আর এদেশে যারা গণতন্ত্র দ্বারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে মন্দিরে যাওয়া, পূজা দেখা বহু কুফরকে ইসলাম বলে অপপ্রচার করে তাদের অনেকে তাকে মুসলিম নেতা হিসাবে প্রচার করছে। আর বর্তমানে তাদের নিকট ইসলামের বিজয় মানে দলের জয় বা ক্ষমতা লাভ, ইসলাম প্রতিষ্ঠা নয়। আর কাফিররাও কাউকে নেতৃত্ব, নমিনেশন দিবে না যতক্ষণ না সে তাদের দ্বীন গ্রহণ করে অথবা তাদের প্রয়োজনে আসে।

আল্লাহ  বলেন-

“ইহুদি এবং খ্রিস্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম অনুসরণ করেন।” (কুরআন ২:১২০)

এরকম ধোকা মুসলিমরা বহুবার খেয়েছে যখনি কোন দেশ ধ্বংস বা দখলের পরিকল্পনা করে তারা। এসব দেশের একজন দালালকে বড় করে তুলে তাকে দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে। একদিকে আমেরিকা শয়তান রাষ্ট্র, মুসলিম হত্যায় সাহায্য করে অন্যদিকে এই প্রশাসনের অংশ হওয়াকে মুসলিমরা গর্বের কারণ মনে করে।

বহু মুসলিম রাত জেগে বিজয় উৎসব করেছে অথচ ফজর  পড়েনি। আবার শুনেছি হিন্দি গান বাজিয়ে বিজয় আনন্দ  করেছিল নেতা ও সমর্থকরা। ফিরআউন, নমরুদ, রসুলগণকে নেতৃত্ব বা ক্ষমতা দিতে চাননি বরং দেশদ্রোহীতার অভিযোগ দেয়। আর রসুলকে (সা:) নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল কাফিররা, তাদের  দ্বীনকে সীকৃতি দেওয়ার শর্তে। তিনি অস্বীকার করেন এরকম দ্বীন বিধ্বংসী প্রস্তাব।

কুরআনে বর্নিত:

সে বললঃ হে মূসা, তুমি কি যাদুর জোরে আমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্যে আগমন করেছ? (সুরা ত্বাহা-৫৭)

সুরা আরাফে আছে –

ফেরাউন বলল, তোমরা কি (তাহলে) আমার অনুমতি দেয়ার আগেই ঈমান আনলে! এটা প্রতারণা, যা তোমরা এ নগরীতে প্রদর্শন করলে। যাতে করে এ শহরের অধিবাসীদিগকে শহর থেকে বের করে দিতে পার। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে। (আয়াত-১২৩)।

বরং যারা ঈমান এনেছিলো, দ্বীনের পথে আহ্বান করেছিল তাদের পাগল, কবি, জাদুকর বহু উপাধি দিয়েছিল। নূহ (আ:) এর সময় কাফিররা যারা ঈমান এনেছিল তাদের সম্পর্কে বলেছিল –

তারা বলল, আমরা কি তোমার (নূহ) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব। অথচ ইতরজনেরা তোমার অনুসরণ করছে? (সুরা আশ শুরা -১১১)

প্রতিটি যুগে নবী, রসুল, মুমিনদের কাফের-মুনাফেকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী ঘোষণা করেছিল। আর কুরআনে আল্লাহ কাফের, মুশরিকদের উল্টো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বলেছেন ও আযাবের ভয় দেখিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘ফেতনা (দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য) হত্যা অপেক্ষা গুরুতর পাপ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত, ১৯১)।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,

‘তারা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, আল্লাহ ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত, ৬৪)

কুরআনে আল্লাহ আরো বর্ণনা করেন,

যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ। তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। (সুরা রাদ, আয়াত : ২৫)

আপনারা কার কথা সত্যি মানবেন – পরম করুনাময়, আলিমুল গায়েব, যিনি সকল কিছু জানেন আমাদের মহান রব আল্লাহ তাআলাকে নাকি কাফের, মুশরিকদের? আজ তাদের হতে পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বহু মুসলিম দাবিদার ব্যক্তিই গর্ব করে। অথচ কুরআনের সতর্কবানী,

হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু বানিয়ো না। তারা পরস্পরে একে অন্যের বন্ধু! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদেরকে হেদায়েত দান করেন না। (সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫১)

আল্লাহ আরো বলেন,

ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা তোমার প্রতি কখনও সন্তুষ্ট হবে না; যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর। বল, ‘আল্লাহর পথ-নির্দেশ (ইসলাম)ই হল প্রকৃত পথ-নির্দেশ (সুপথ)।’ তোমার নিকট আগত জ্ঞানপ্রাপ্তির পর তুমি যদি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহর বিপক্ষে তোমার কোন অভিভাবক থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না। (সুরা বাকারাহ -১২০)

যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তাদের আদর্শ অনুসরণ, স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুসলিমদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে না। যাদের দ্বারা মুসলিম, ইসলামের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়/হয়েছে বা করার চেষ্টা করা হয় তার অংশ হিসেবে ক্ষমতা/শন্তির জন্য পুরষ্কার দেওয়া হয়।

আনোয়ার আল সাদাত (মিশর), ইয়াসির আরাফাত, আবি আহমদ (ইথিওপীয়া), মালালা, ওবামা, নার্গিস মুহাম্মাদী (ইরান, যিনি তথাকথিত নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেছিলেন) ওদেরকে শান্তিতে পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। মূলত ওদের দ্বারা তাদের স্বার্থ হাসিল করা ও মুসলিম অধ্যুষিত দেশে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা হয়। আনোয়ার সাদাত, ইয়াসির আরাফাত যতদিন লড়াই করছিল ওদের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের (ইসরায়েল) সাথে ততদিন তারা অপরাধী ছিল। যখনি যুদ্ধ বিরতি দিয়ে ওদের স্বার্থ রক্ষা পেল তখন পুরস্কৃত করলো।

মুরসীকে ফাসি দেয় আর জালিম হোসনি মুবারককে মুক্ত করে তারা। মুসলিম অধ্যুষিত দেশে প্রকৃত মুসলিম নেতা ক্ষমতা পাক তারা চায় না, বাধা দেয়। আর তাদের রাষ্ট্রে দ্বীনদার মুসলিমকে ক্ষমতা/নমিশেন দিবে এটা দিবাস্বপ্ন।

একদিকে বলবেন এটা শেষ জমানা- ফুরাতের যুদ্ধ, মালহামা, দাজ্জাল আগমন করবে আবার গণতান্ত্রিক নেতাদের নিয়ে বিজয়ের মিথ্যা স্বপ্ন শুনাবেন দ্বৈত নীতি নয় কি!?