ইসলামে স্বাধীনতা নামক যেমন কুফরের স্থান নেই তেমনি পশ্চিমাদের অবিষ্কৃত আজাদী, ইনকিলাব ইসলামী পরিভাষা নয়। এগুলো ইংরেজ বিরুদ্ধে আন্দোলনরত পশ্চিমা শিক্ষিত লোকেরা উপমহাদেশে ছড়িয়েছে। ইসলামে রয়েছে জিহাদ ও খিলাফাহ এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন।

জাহেলরা আজাদী আর খিলাফাহ, ইনকিলাব আর জিহাদ এক করে ফেলছে। এর ফলে ইংরেজদের হতে চুক্তিভিত্তিক ফিতনা নামক স্বাধীনতা পেয়ে জিন্নাহ পাকিস্তান নামক শিয়া প্রশাসন দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন করে।

মিথ্যা স্বাধীনতা অর্জন নিয়ে ভারত-পাক কত গর্বিত। অথচ হিটলারের ২য় বিশ্বযুদ্ধ ও বিট্রেনসহ, ইউরোপে গণতন্ত্র অবির্ভাব এই উপমহাদেশ হতে ইংরেজদের পলায়নের কারণ। হিটলার ইউরোপ শক্তি শেষ করেছিল- ইংরেজরা ভারতবর্ষে আক্রমণের ভয় পেত তিতুমীরের আদর্শভরা মুসলিম ও হিটলার অনুরাগী  বাহিনী দ্বারা।

তারা হিন্দু, শিয়া – জিন্নাহ, গান্ধীদের সাথে অলিখিত চুক্তি করে। ইংরেজদের সাথে গৃহযুদ্ধে না জড়ালে পরবর্তীতে ওদের স্বাধীনতা দিবে। অন্যদিকে বিশ্বের বহুদেশে ইংরেজদের সেনারা মারা পড়ছিল ও সমালোচিত হচ্ছিল।

যতদিন রাজতন্ত্র ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও সেনাদের লুটপাত করা সম্পদের অনেকাংশ রাজ কোষাগারে জমা হতো। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে সেনা মৃত্যু নিয়ে সমালোচনা হতে লাগলো যা পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সেনাদের অন্য দেশ হতে প্রত্যাহার করে নিয়ে আসে।

আর পাক-ভারত ইংরেজদের সাথে কবে জিহাদ করে স্বাধীন হয়েছিল, ইসলামী রাষ্ট্র গড়েছিল!? বরং ইংরেজরা যাবার আগে পাক-ভারত বিভক্ত করে গেছে, তাগুতী আইন, সেকুলারদের ক্ষমতা দিয়ে গেছে যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথে বাধা ছিল। ইংরেজরা জালিম ছিল তেমনি স্থানীয় জমিদার, সওদাগররাও জুলুম করেছিল করের নামে। ইংরেজরা আসার আগে ভারতবর্ষে মুসলিম-হিন্দু মিল মহাব্বত ছিল তাও ভুল। বরং জাতের নামে ব্রাক্ষ্মনরা বৈশ্য, শুদ্র, দলিতের সাথে বিরূপ আচরন করতো। সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল, মোঘলরা ও বিভিন্ন মুসলিমরা পরস্পর লড়াই করেছে ক্ষমতার জন্য।

মূল বক্তব্য হলো- ইংরেজ বলুন বা পাকিস্তান-ভারত বলুন, ওরা সুযোগ পায় শাসকের দুর্নীতির কারণে। স্থানীয় জনগণ যখন অসন্তোষ হয় তখন দেশীয় মীর জাফর, রাজাকার, দুনিয়া লোভী ইসকন/ভারতের দালালরা ক্ষমতার জন্য জনগনের আবেগকে কাজে লাগায়। এই সকল দেশীয় শত্রু দ্বারা ইংরেজ, ভারত আমাদের উপর প্রভুত্ব করে।

যতদিন পর্যন্ত এই সকল জালিমদের সমূলে উৎপাটন করা না যাবে, ইসলামী রাষ্ট্র নামক শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।