পাশের এলাকায় অনেকগুলো হিন্দু বাড়ি ছিল। নিম্ন শ্রেনী (নিম্ন শ্রেনী, উচ্চ শ্রেনী কাফিরদের তৈরি) হিন্দুরা এসে মুসলিম বাড়িগুলো হতে কলের পানি, পুকুরের পানি ব্যবহার করতো। কারণ তাদের উচ্চ শ্রেনীর লোকেরা তাদের নলকূপ ঘাট ব্যবহার করতে দিত না। অনেকে মসজিদের টেপ/নলকূপ ব্যবহার করতো। এগুলো অতি স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। যমযমের পানি একসময় কাফিররা পান করতো, এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি ঠিক নয়।
কিন্তু যখনই কোন মুসলিম হিন্দু সমস্যা হতো, অন্যায় স্বত্বেও গরিব বিধর্মীরা মুসলিমদের পক্ষে স্বাক্ষী দিতো না। অন্যদিকে ধনী হিন্দুরা এলাকার প্রভাবশালী মুসলিম নামক মুনাফিকদের সাথে চলাফেরা করতো। উভয়ের সংস্পর্শে এসে স্টার জলসাসহ বহু হিন্দি, কলকাতার সিরিয়াল ঘরে চলতে লাগলো। মুসলিমগৃহে মুসলিমরা হিন্দুদের এইসকল অনুষ্ঠান দেখতে লাগলো, এছাড়াও বলিউড ও কলকাতার সিনেমা তো আছেই। ফলে পূজা, মূর্তির মত শির্কগুলো অতি স্বাভাবিক হয়ে গেল। আবার এই সকল সিনেমা, সিরিয়ালে মুসলিম ও হিন্দু বিবাহ ঐতিহ্যবাহী প্রেম হিসাবে নাকি দেখানো হতো।
ক্রিকেট নামক ফিতনায় জাতীয়তাবাদের নামে মুসলিম, হিন্দু ভাই-ভাই/একদল ও দেশ সবার আগে বুঝালো। ফলে আল ওয়ালা ওয়াল বারা ভুলে মুসলিম হিন্দু ছেলেমেয়ে মেলামেশা অতি স্বাভাবিক হলো।
যখন পূজা আসতো পুরা এলাকা বাস, ট্রাক, সিনএজি, যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হতো ও জাকজমকপূর্ন পূজা আয়োজন করা হতো। সারা রাতব্যাপী পূজায় গান, বাজনা চলতো। এইসকল পূজার পোস্টার, গেট রাস্তায় লাগাতো যার নিচ হতে মুসলিমদের যেতে হতো। এগুলোর বহু প্রতিবাদ করেছি, মুসলিমরা উগ্রবাদী বলতো। একদিন দেখি তারা মুসলিমদের মসজিদের দেওয়ালের সাথে পূজার ব্যানার লাগাচ্ছে, ঈমাম সাহেবসহ হাজার মানুষ দেখছে। প্রতিবাদ করে দূরে লাগাতে বাধ্য করলাম যা মুসলিমরাই ভালোভাবে নেইনি।
এইদিকে নামধারী মুসলিমরা হিন্দু বন্ধ-বান্ধবীর সাথে মন্দিরে যায়, প্রসাদ চায় ও খায়। এমনি কি অনেক মুসলিম যুবক মদের টানে পূজায় গিয়েছে! কিন্তু ওরা কখনও আমাদের নিকট কুরবানির গোশত চেয়ে খায়নি!? ওরা ওদের ধর্ম বিসর্জন না দিলেও আমরা দিচ্ছিলাম!? এইদিকে লক্ষী পূজায় সারারাত বাজি ফুটতো। বৃদ্ধ, পরীক্ষার্থী, অসুস্থ, শিশু সবাই পেরেশানীতে ছিল। তবুও চুপ সবাই। বহু হিন্দু ভাইদের বুঝালাম – এসব বাজি ফুটানো, হিন্দি, বাংলা গানের সাথে হিন্দু ধর্মের পূজার কোন সম্পর্ক নেই।
আবার অনেকে ভোটের জন্য পূজায়, মন্দিরে যাওয়া শুরু করলো যাদের আদর্শ পুরুষ হলো তাগুতী নেতারা। নিশ্চয়ই ইব্রাহিম (আ) আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। অমুসলিমদের নিরাপত্তা আর মন্দির পাহারা দুটো ভিন্ন জিনিস। ইসলামী রাষ্ট্রে কেউ শাস্তির ভয়ে ওদের জুলুম করবে না- আর কোন মুসলিম অন্য ধর্মের পূজা (উৎসব) ও মন্দিরে যাবে না। তাই অমুসলিমদের উপর আঘাতের প্রশ্ন আসে না। গেলে অন্যান্য মুসলিমদের নিকট তার মান, মর্যাদা বজায় থাকবে না।
আর ইসলামী রাষ্ট্রে তারা নির্দিষ্ট পরিসরে তার পূজা করবে, পুরো জাতি তাদের শির্ক দেখতে বাধ্য থাকবে না। আর এদেশে একজন আলেমও পেলাম না ধর্ম নিরপেক্ষতার সঠিক অর্থ বুঝেছে ও বুঝাতে পেরেছে।
তাদের মতে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঠিক আছে, তবে পাক সৌদী ইসলামী। বিশ্বে শতভাগ ইসলামী রাষ্ট্র নেই যে জিজিয়া দিয়ে ধর্ম পালন করে। বরং মক্কা মদীনায় মুশরিক প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছিল সেখানে মার্কিন সেনাদের চলাফেরা চলছে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলতে বুঝায় – রাষ্ট্র যতটুকু ধর্ম পালন করতে অনুমোদন দেয় ততটুকু পালন করতে বাধ্য। রাষ্ট্র নিজের জন্য ক্ষতিকর হয় এইরূপ ধর্ম পালন করতে দিবে না।
আচ্ছা ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র, হিন্দু রাষ্ট্র নয় – ভারত কি সতীদাহ প্রথা, নরবলি করতে দেয় নাকি বাঁধা/শাস্তি দেয়?
কারণ এটা ধর্মের নামে প্রচলিত ঘৃণিত কাজ। রাফেজীরা আয়েশা (রা), হাফসা (রা) সহ সাহাবীদের গালি দেয়। আরব রাষ্ট্র কি ধর্ম পালনের নামে তা অনুমোদন দিবে নাকি গালি দিলে শাস্তি দিবে? চীনে ধর্ম পালন করতে দেয়, মায়ানমারেও মুসলিম আছে, ইসরাইলেও মুসলিম আছে। কিন্তু উইঘুর, গাজা, আরাকানের মুসলিমদের রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ঘোষণা করে জুলুম ও ধর্ম পালনে বাধা দিচ্ছে!
ইসলামী রাষ্ট্র হলে শিয়া, কাদেয়ানী ফির্কামুক্ত করা হতো দাওয়াহ ও জিহাদ দ্বারা। ইসলামী রাষ্ট্রে ধর্ম পালনের নাম দিয়ে সকল মানবতা বিরোধী কাজের অনুমতি ইসলাম দেয় না। ওদের জন্য বৈধ কীর্তন, ধর্মগ্রন্থ পাঠ, তারা তা করুক। গীতা, বেদ, উপনিষদ, মহাভারত, রামায়ান, বিষ্ণু পুরানসহ সকল পুরান, মনুসংহিতায় কোথায় এসব নাচ গানের বৈধতা দেওয়া আছে? বরং মনুসংহিতায় অশ্লীল নাচ গান নিষেধ করা হয়েছে।
সনাতন ধর্ম অনেক পুরাতন। বাজি যখন আবিষ্কারই হয়নি। তথাকথিত কি হিন্দী ভাষা বা গান ছিলো? আজও গীতা, বেদ, মহাভারত সংস্কৃত হতে বাংলা হচ্ছে। কিছু হিন্দু বুঝলেও মুসলিম যুবকরা বলে উগ্রবাদী চিন্তাধারা।
বহুদিন বাজি ফুটানো, মুসলিমদের গৃহকোনে বাধা দেওয়ায় মুসলিম তরুনরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মারতে চেষ্টা করলো। আল্লাহ রক্ষা করেছেন। পরবর্তী বহুবছর ওরা আমাকে এড়িয়ে চলতো। একটা সময় এই সকল তরুনদের সাহায্য, দাওয়াহর সূত্রে ওদের প্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলাম।
এলাকায় কিছু তরুন/তরুনী নওমুসলিম হয়েছিল। নাবালক, নাবালিকা বলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা করলো। প্রশাসন সবসময় তাদের সাথে। তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে মুসলিম ও ইসকন দ্বন্দ্ব হলো। এমপি, কমিশনার, প্রশাসন শত নিরীহ মুসলিম তরুনদের গ্রেফতার করলো। ১৬-১৮ বছরের বহু তরুন জেলে দিনের পর দিন কাটিয়েছিল। অনেকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। মুসলিমরা ওদের প্রেমের শাস্তি অনুভব করতে লাগলো, কিন্তু বড় দেরিতে। প্রশাসন, ব্যবসা সবকিছুতে ওদের আধিপাত্য তখন।
ইসলাম শান্তির কথা বলে- ন্যায়বিচার, সুশাসন, ভারসাম্যের দিকে আহ্বান করে। অন্য ধর্মের নিরীহ লোক যারা ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি তারা ইসলামী রাষ্ট্রে নিরাপদে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে। বিনা কারণে মুমিনদের উচিত নয় অন্য ধর্মের লোকদের আঘাত করা। কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদের নীতি সকলের কল্যাণ চাওয়া। তাই সে আহ্বান করবে – যেন সকল প্রকার কুফর, শির্ক ছেড়ে মুসলিম হয়ে মানুষ জাহান্নাম হতে রক্ষা পায় ও জান্নাতে যেতে পারে।
এখন এই আহ্বান করলে অনেকে আপত্তি জানাতে পারে – বলতে পারে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হচ্ছে! সেজন্য মুমিন কি কল্যাণকর দায়িত্ব হতে বিরত থাকবে?
রসুল (সা:) যখন কালিমার দাওয়াহ দেন – তখন আবু জাহেল, আবু লাহাবরা বিরোধিতা করেন এই অজুহাতে যে তাদের ধর্মকে অস্বীকার করা হচ্ছিল। এতে তাদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছিল। অথচ আমরা কালেমা পড়ে সাক্ষী দিই – সকল প্রকার তাগুত, শির্ক, ধর্ম বাদ দিয়ে এক আল্লাহর ইবাদত ও রসুলের (সা:) আদর্শ অনুসরণ করার। আযানেও প্রতিদিন পাঁচবার এই স্বীকৃতি দিই। এখন যদি কেউ দাবি করে – তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয় বা রাজনীতিবীদ নেতাদের আদর্শকে বাদ দিয়ে একমাত্র রসুলের (সা:) আদর্শের দিকে আহ্বান করা উগ্রবাদ! মুমিন কি তা মেনে নিবে? এজন্য কি কালেমা ও আযান ছেড়ে দিবে? অথচ আজ শরীয়া চাইলে মুসলিম নামধারীরা একই পরিচয়ে অভিহিত করে কিন্তু মুমিনের বিশ্বাস ইসলাম একমাত্র মানবজাতির সমাধান সে তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাবে। যতই মানুষ বিরোধিতা করুক না কেন।
আমরা পশু কুরবানী দিলেও কেউ দাবি করবে হয়তো তার ধর্মের উপর আঘাত হয়েছে। অনেক ধর্মের লোক বিশেষ বিষধর সাপ, হিংস্র বাঘের পূজা করে। এখন বিষধর সাপ/বাঘ ঘরে প্রবেশ করলে তা মারলেও তার ধর্মের আঘাত হিসেবে দাবি করতে পারে। এই জন্য কি মানুষ বিষধর সাপ, হিংস্র বাঘ, নেকড়ে মারা ছেড়ে দিচ্ছে? আমরা কুরআন পড়লেও ইহুদি, খ্রিস্টান, মূর্তিপূজারী, সুদের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যাবে, এই জন্য কি আমরা কুরআন পড়া ছেড়ে দিবো?
