মাজার বিরোধীতা কি খুব সহজ কাজ?

বিশ্বে দুটো স্থান আলীর (রা:) মাজার হিসাবে খ্যাত। ইরাকে নাযাফ শহরে ও আফগানিস্তানে মাজারে শরীফ দুটোতেই মাজার কেন্দ্রীক শির্ক চলছে।

আফগানিস্তানে আলীর (রা:) কবর হওয়া অসম্ভব। কারণ তার শাহাদত বরনের স্থান হতে বলখ অনেক দূরে ছিল। দ্রুত মৃতদেহ নেওয়া সম্ভব ছিল না তখন। আজও মাজার শরীফে আলীর (রাঃ) মাজার দর্শনে হাজার হাজার লোক ভ্রমন করে।

ইরান, চট্টগ্রামে দুটো স্থানে বায়োজীদ বোস্তামীর মাজার রয়েছে। অথচ তার জন্ম, কর্ম, মৃত্যু ও কবর হলো ইরানে। অথচ এদেশে তার মাজার কেন্দ্রিক বহু বিদআত, শির্ক ও ব্যবসা চলছে। আমরা কি পেরেছি তা বন্ধ করতে?

১২৭৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ক্বালাউনের সময়কালে  রসুলের (সা:) পবিত্র রওজার উপর গম্বুজ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে কয়েকবার পুনঃনির্মাণ করা হয় এবং ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এটিকে পুনরায় নির্মাণ ও সংস্কার করেন। ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে গম্বুজটি সবুজ রঙে রাঙানো হলে এটি “সবুজ গম্বুজ” নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর এটাকে নিয়ে কত নাশিদ, গল্প, কাব্য লেখা হলো যেন সবুজ গম্বুজ দেখা ইবাদতের অংশ। কিন্তু রসুলের (সা:) রওজার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। অথচ রওজা বা মুমিনদের কবর নিয়ে চাকচিক্য, বিলাসী সাজ সাহাবী-তাবেয়ীর যুগে হারাম ভাবা হতো।

৬৯১ সালে উমাইয়া বাদশাহ আব্দুল মালিক বায়তুল আকসা কেন্দ্রিক অষ্টকোণ বিশিষ্ট ডোম অফ রক স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। এটির মধ্যখানে রয়েছে একটি দামি পাথর, যাকে কেন্দ্র করেই এই স্থাপনা নির্মিত। এজন্যই একে বলে কোব্বাতুস সাখরা/ ডোম অফ দ্য রক/পাথরের গম্বুজ।

৫০০ বছর আগে মুসলিমদের কাছে গম্বুজ তৈরির কারিগরি দক্ষতা থাকা স্বত্বেও মুসলিমরা রসুলের (সা:) রওজা কেন্দ্রীক গম্বুজ তৈরি করেনি। এটা যদি জায়েজ হতো তাহলে সাহাবীরা (রা) স্বর্ন দিয়ে গম্বুজ তৈরি করতো।

আরবের জনগণ, ক্ষমতাসীনরা প্রথম প্রথম এর বিরোধিতা করলেও শিয়া/উসমানীরা আক্রমণ/জনপ্রিয়তা হ্রাস হতে পারে এই ভয়ে পরবর্তীতে বিরোধিতা হতে বিরত থাকে। আর এখন সহীহ হাদীস ও হক্বপন্থী দাবিদার বেশিরভাগ আলেমরা যারা সবসময় বিদআত, বিদআত বলে তারাও এই ব্যাপারে নিরবতা পালন করছে। ভবিষ্যৎ খলিফা মাহাদী (হাফি:) এসে বা এর পূর্বে কেউ যদি একে ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেন। হয়তো সুফিয়ানী যার বাহিনী বেশিরভাগ সৈন্য হবে বনু কাল্ব যারা নুসাইরিয়া ধর্মে বিশ্বাসী। খলিফা মাহাদীর (হাফি:) বিরুদ্ধে যিনি ১ম সেনা পাঠাবেন শাম হতে। আক্রমণের অন্যতম কারণ হিসাবে মাজার ভাঙ্গা, রওজার সবুজ গম্বুজের বিরোধিতা, সম্মান নষ্ট করাকে অজুহাত করবে। আল্লাহ উত্তম জানেন।

হক্বপন্থী দাবিদাররাই তখন মুসলিমদের জঙ্গি বলবে। ইসলামের নামে বিদআতীরা যখনি ক্ষমতায় বসেছে বিদআত চালু করেছে, জনপ্রিয় করেছে। একসময় রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বিদআত এমনভাবে পালিত হতো যেন এটাই ইসলাম। যার বিরোধীতা করা পাপ, ধ্বংসের কথা বলা খারেজীর স্বভাব।

তাই শতভাগ বিশুদ্ধ তাওহীদ সম্পর্কে জাতিকে সচেতন না করলে তাওহীদপন্থীরা ক্ষমতায় না আসলে মাজার, বিদআত খতম করা সহজ হবে না।