কারো অনৈইসলামিক কাজের ভুল ধরিয়ে দিলে সংশোধন না করে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ঘোষণা করা হচ্ছে। ওরা কি দাবি করছে না- ওরা এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে ওরা ভুলের উর্ধ্বে। তাদের কাছে কি নতুন ওহী এসেছে যা আল্লাহর হারামকৃত বিধানকে হালাল করতে চাইছে যুক্তি দিয়ে?
শুনেছি শয়তান তার সঙ্গীদের নিকট এই ধরনের যুক্তি উপস্থাপন করতো। অদ্ভুত যুক্তি- ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র প্রয়োজন আর নারীর ভোট পেতে বেপর্দা নারীদের সাথে চলাফেরাও জায়েজ। বিধর্মীদের ভোট পেতে তাদের শির্কী দিবস, অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জায়েজ। অথচ শির্ক সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ আর একে শুভেচ্ছা জানানো কুফরী।
এভাবে চললে – সিগারেট, জর্দা সেবনকারীদের ভোট পেতে হয়তো জর্দা, সিগারেট বিলিন করা জায়েজ ঘোষিত হবে। এটা এমন যে আপনারা শির্ক করে জাহান্নামে যান; সিগারেট, জর্দা সেবন করে রোগে আক্রান্ত হোন সমস্যা নেই – শুধু আমাদের ক্ষমতা দিলে হবে।
রসুলদের দাওয়াহ কি এমন ছিল?!
তারা শির্ক ও জাহান্নাম হতে জাতিকে সতর্ক করতো ও তাওহীদ ও জান্নাতের সুসংবাদ দিতেন। যদিও জাতি তাদের উপর জুলুম নির্যাতন চালাতেন তারা দাওয়াহ ও দ্বীনের পথে অটল থাকতেন।
আল্লাহ বলেন-
হে নবী! অবশ্যই আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে (সুরা আল আহযাব-৪৫)
‘‘আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাগূতকে অস্বীকার করার নির্দেশ দিয়ে আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি।’’ অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। (সুরা নাহল -৩৬)
‘‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে যান। আর যারা কুফরী করেছে তাদের অভিভাবক তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়।’’ (সুরা যুমার-১৭)
আর আকীদা হারাম, হালালের ক্ষেত্রে যুক্তিতর্কের উর্ধ্বে গিয়ে ঈমান ও আমল করতে হয়। মূলত শয়তান তাদের নিকট এসব যুক্তিকে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য।
আল্লাহ বলেন-
আর আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি তার কিছুই তোমরা খেও না; এবং নিশ্চয় তা গর্হিত। নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে প্ররোচনা দেয়; আর যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক। (সুরা আল আনাম -১২১)
কাফেররা যখন শুনল যে, মুসলিমরা নিজে আল্লাহর নাম নিয়ে যা যবাই করে তা খায়, আর যা যবাই করা হয় নি, এমনিতেই মারা যায় তারা তা খায় না, তখন তারা বলতে লাগল, আল্লাহ স্বয়ং যেটা যবাই (হত্যা) করলেন সেটা তোমরা খাও না, অথচ যেটা তোমরা যবাই কর সেটা খাও, (অর্থাৎ এটা কেমন কথা?) [আবু দাউদ: ২৮১৮ ইবন মাজাহ: ৩১৭৩]
আল্লাহ তা’আলা তাদের এ কথার জবাব দিতেই আলোচ্য আয়াত নাযিল করেন। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, আনুগত্যের মধ্যেও শির্ক রয়েছে। অর্থাৎ কেউ কোন কিছু শরীআত হিসেবে প্রবর্তন করলো আর অন্যরা তার আনুগত্য করলো, এতে যারা শরীআত হিসেবে প্রবর্তন করলো তারা হলো, তাগুত। আর যারা তার আনুগত্য করে সেটা মেনে নিলো তারা আল্লাহর সাথে শির্ক করলো।
আজও তারা এইরূপ যুক্তি দেখায় যা শয়তান ও কাফেররা ছড়িয়েছে, যেমন- মজলিসে শূরা আর গণতন্ত্র এক। ইসলামেও গণতন্ত্র আছে। বর্তমান যুগে গণতান্ত্রিক ব্যালেটের জিহাদ যেন বলতে চায় সাহাবীদের ইসলাম এই যুগে চলে না।
যারা তাদের আনুগত্য করবে সেই তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।
