শাসকের বিরোধিতা করাই কি খারেজী হওয়ার আলামত?

আজকাল কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী শাসিত শাসক নয় বরং তাগুত শাসকের ভুল ধরলেও খারেজী অপবাদ দেয়। আসুন এই সকল আলেমদের দ্বৈত নীতি দেখি-

ওদের মতে বনু উমাইয়া, বনু আব্বাসী, বনু উসমানী খেলাফাহ ও মুঘল সাম্রাজ্য ছিল ইসলামী শাসন। ঈমাম আবু হানিফা, মালিক, হাম্বল ঈমামগন বনু উমাইয়া, বনু আব্বাসের বিরোধিতা করেন। ঈমাম আবু হানিফা (রহ:), ঈমাম মালিক (রহ:) এই সকল শাসকদের বিরুদ্ধে গিয়ে হাসান (রা:) ও হুসাইন (রা:) বংশধর যায়েদ (রহ:) ও নফসে জাকিয়ার (রহ:) হাতে বায়াত নেন।

যার কারণে তাদের উপর জুলুম হয়েছিল!? এ সকল ঈমামগণ যদি সঠিক পথে থাকে তাহলে শাসকগন জুলুম করেছিল?! আর শাসক যদি আদর্শ খলিফাহ হয় তাহলে ঈমামগণ খারেজী ছিল? আবার বনু উমাইয়া খিলাফাহ হলে – হুসাইন (রা:) ও আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা) (যিনি খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করেন পুনরায়) বনু উমাইয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেন। আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা:) ছিলেন প্রকৃত খলিফাহ তাহলে বনু উমাইয়া খিলাফাহ কিভাবে হয়?

একটু চিন্তা করুন- ইয়াজিদের শাসনামালকে যদি খিলাফাহ বলেন – যখন আলীকে (রা:) মসজিদ হতে অভিশাপ দেওয়া হতো, আহলে বায়াতকে হত্যা করা হয়েছিল। এই ইসলাম মুমিনও চাইবে না, বিধর্মীরা কিভাবে চাইবে। আব্বাসীদের প্রাথমিক যুগে রসুলের (সা:) বংশধর নফসে জাকিয়াকে (মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ) হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছিল।

আবার মানলাম – বনু উমাইয়ার শাসন খিলাফাহ, তাহলে মারওয়ান ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সাহাবী হত্যাকারী হয়েও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। হাজ্জাজের নির্দেশে খলিফাহ আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের (রা) হত্যা করা হয়। কিছু দিন লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। (মুসলিম শরীফ, অধ্যায়- কিতাবুল হজ্ব)

যিনি আবু বকরের (রা:) নাতি, রসুলের (সা) প্রিয় ফুফাতো ভাই যুবায়ের (রা:) ও তার শ্যালিকা আসমার (রা:) ছেলে। দীর্ঘদিন মদীনায় মুসলিমদের সন্তান না হওয়ায় ইহুদিরা গুজব ছড়িয়েছিল তারা বান করে সন্তান জন্মানো বন্ধ করে দিয়েছে। আর হিজরতের পর প্রথম সন্তান জন্মগ্রহন করে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা:)। রসুল (সা:) মহাখুশি হয়েছিল। তার মুখের প্রথম খাবার ছিল রসুলের (সা:) লালাযুক্ত খেজুর।

হযরত আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি মক্কায় আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে পেটে ধারণ করেন (গর্ভবতী)। তিনি বললেন, আমি যখন মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম, তখন গর্ভের সময় পুরা হয়েছিল। আমি মদীনায় আসলাম এবং কুবা পল্লীতে অবতরণ করলাম।

সেখানেই আব্দুল্লাহ ভূমিষ্ঠ হল। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে আসলাম। তিনি আব্দুল্লাহকে কোলে বসালেন এবং একটা খেজুর চেয়ে নিয়ে চিবালেন। অতঃপর আব্দুল্লাহর মুখে তার লালা দিলেন।

সর্বপ্রথম আব্দুল্লার মুখে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর লালাই গিয়েছিলো। অতঃপর তিনি খেজুর মুখের তালুতে লাগিয়ে দিলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া করলেন। অধস্তন রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ (রা.) ছিল হিজরতের পরে ইসলামের প্রথম শিশু। মুসলিম-৩/১৬৯১, হাদীস-২১৪৬।

আর সাহাবীদের পরবর্তীতে বনু উমাইয়ার শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ) কি খারেজী ছিলেন? তিনি হাজ্জাজসহ বনু উমাইয়ার জুলুমের বিরোধীতা করেন। পরবর্তীতে বনু উমাইয়ার লোকদের হত্যা করে বনু আব্বাস ক্ষমতা পায়।

আলেমদের মতে আবার উভয় খিলাফাহ। অথচ বনু উমাইয়া খিলাফাহ বা খলিফা হলে বনু আব্বাসের যুদ্ধ ছিল খারেজীর আলামত। তাতারীদের প্রতিরোধে মুসলিমদের পক্ষে বড় ভূমিকা রাখে চেঙ্গিস খানের বংশধর বারাকে খান ও অন্যদিকে মামলুকরা। অথচ বারাকে খানের নামই জানে না, সালাউদ্দিন আইয়ুবীর চেয়ে তার ভূমিকা কম নয় বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী বেশিই হবে।

সালাউদ্দিন আইয়ুবী জেরুজালেম বিজয় করেন আর বারাকে খান নিজ জাতির বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই করেন। তখন মুসলিমদের অস্বিত্ব বিলীন হওয়ার পথে ছিল। আইয়ুবী সম্রাজ্য ও সালাউদ্দিন আইয়ুবীর বংশধর ক্ষমতা পেলে তার বীরত্ব কাহিনী দীর্ঘদিন সংরক্ষিত ও প্রচার হয়। অপরদিকে অজানা থেকে যায় বারাকে খান ও মামলুকদের বীরত্ব।

সুলতান ফাতেহ মাহমুদ ইস্তাম্বুল বিজয় করলেও খলিফা দাবি করেননি। কারণ খলিফাহ হয় কুরাইশ হতে। দীর্ঘদিন মামলুকদের সহায়তায় আব্বাসীরা খলিফা দাবি করতো।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কানাব, কুতায়বা ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জনগণ এর বিষয়ে (প্রশাসনিক ব্যাপারে) কুরায়শদের অনুসারী। মুসলিমরা তাদের মুসলিমদের এবং কাফেররা তাঁদের কাফেরদের (অনুসারী)। (মুসলিম)

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) … হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে যে সকল হাদীস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেন তন্মধ্যে একটি হল যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন এই ব্যাপারে কোরায়শের অনুসারী মুসলিমরা মুসলিমদের অনুসারী এবং কাফেররা কাফেরদের অনুসারী। (মুসলিম)

ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারেসী (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন ভাল-মন্দ (উভয় ব্যাপারেই) কুরায়শের অনুসারী।

আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ কর্তৃত্ব (খেলাফত) সর্বদা কুরায়শের মধ্যেই থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত (দুনিয়ার) দুটি লোকও বেঁচে থাকবে। (মুসলিম)

কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও রিফা’আ ইবনু হায়সাম ওয়াসেতী (রহঃ) … সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তখন আমরা তাঁকে বলতে শুনলাম, শাসন ক্ষমতার ব্যাপারটা চলতে থাকবে যতক্ষন না উম্মাতের মধ্যে বারজন খলীফা অতিবাহিত হবেন। তারপর তিনি কিছু বললেন, যা আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল। তখন আমি আমার-পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বললেন? তিনি বললেন যে, তিনি বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশোদ্ভূত। (মুসলিম)

১৫১৬ সালের ২৪শে আগস্ট সিরিয়ার দাবিক নামক স্থানে উসমানীয় সাম্রাজ্য ও মামলুক সালতানাতের মধ্যে সংঘটিত একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ হয়। যা উসমানীয়দের বিজয়ের মাধ্যমে মামলুক সালতানাতের পতন ঘটায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উসমানীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। মামলুকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত করে উসমসনীরা খলিফাহ দাবি করে। আশ্চর্য হলো যুদ্ধটা ছিল সিরিয়ার দাবিকে যেখানে মালহামা হবে ভবিষ্যতে। আর উসমানী বাহিনী এসেছিল তুরস্ক হতে, ভবিষ্যৎ রুম বাহিনী হয়তো ইস্তাম্বুল দিয়ে প্রবেশ করবে।

উসমানী সুলতান সেলিম আব্বাসী খলিফাহ দাবিদার মুতাওয়াক্কিলকে বন্দী করে হায়া সোফিয়ায় নিয়ে যান। ওখানে প্রথম সুলতান সেলিম খলিফাহ দাবি করেন। উসমানী বাহিনীতে বহু খ্রিস্টান অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ মুসলিম, খ্রিস্টান জোট মিলে মামলুক সম্রাজ্যের মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ হলেও আলেমদের মতে উসমানীরা সঠিক।

উসমানীয় সম্রাজ্য, মোঘল সাম্রজ্যে মুসলিমদের কিছু অগ্রগতি যেমন হয়েছিল তেমনি বিদআতও চালু হয়েছিল। ক্ষমতার জন্য বাপ – ছেলে, ভাই – ভাইকে হত্যা করেছিল। মোঘল শাসক আকবর নতুন ধর্ম চালু করেছিল। আর বহু রাজাদের অধিকাংশ মন্ত্রী, সেনা, আমলা ছিল হিন্দু। উসমানী সম্রাজ্যে বহু খ্রিষ্টান সেনাও ছিল। তাহলে আব্বাসী খলিফাহ হলে উসমানীদের যুদ্ধ কি খারেজীর আলামত ছিল আবার উসমানী শাসকও খলিফাহ।

অপরদিকে বাদশাহ বাবর ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে পাদশাহ (বাদশাহ) দাবি করেন, মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ইব্রাহীম লোদী মুসলিম শাসক হলে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বাবর কিভাবে মহাবীর হলো। মুঘল শাসকদের মধ্যে বাদশাহ আকবর দ্বীনী এলাহি চালু করেন। শাহ জাহানের তাজমহল নামক মাজারের জন্য কত মানুষকে দুর্ভোগ, দারিদ্র্যতা বরণ করতে হয়েছিল। শুধু কি মির জাফর একা দায়ী! সিরাজ উদ্দৌলার বাহিনীর হিন্দু মন্ত্রী, সেনারা কি তার বিরুদ্ধে যায়নি?

শাহ জাহানের বিরোধিতা করায় বহুজন গালি, অপবাদ দিয়েছিল। অথচ শাহজানের সবচেয়ে বড় বিরোধী ছিল তার ছেলে আওরঙ্গজেব। তিনি শাহ জাহানকে বন্দী করে ও তার ভাই দারার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ক্ষমতা নেন, অনেক শরীয়া আইন চালু করেন। তার নির্দেশে ফিকাহ আলমগিরি লেখা হয় যা হানাফি মাজহাবের অন্যতম গ্রন্থ। শাহ জাহান নেককার মুসলিম শাসক হলে আওরঙ্গজেব তাহলে খারেজী ছিল।

এভাবে ইতিহাস দিয়ে বিশ্লেষণ করলে অনেক আলেমদের যুক্তি টিকবে না। যদিও হাদীসের বিপরীত তারা মিথ্যা ইতিহাস আনার চেষ্টা করে।

হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে নবুওয়ত ততক্ষণ পর্যন্ত বর্তমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ চাহেন। এরপর আল্লাহ্‌ তা তুলে নিবেন। এরপর নবুওয়তের পদ্ধতিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা ততক্ষণ বর্তমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ চাইবেন। এরপর তিনি তা তুলে নিবেন। তখন যুলুম অত্যাচার ও উৎপীড়নের রাজত্ব কায়েম হবে। তা’ ততক্ষণ পর্যন্ত বর্তমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্‌ তা’ তুলে নিবেন।

তখন তা’ অহংকার ও জবরদস্তিমূলক সম্রাজ্যে পরিণত হবে এবং তা’ ততক্ষণ পর্যন্ত বর্তমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্‌ তা’ তুলে নিবেন। তখন নবুওয়তের পদ্ধতিতে পুনরায় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে।” (আহ্‌মদ, বায়হাকী)

সাফীনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নবুওয়্যাতের ভিত্তিতে পরিচালিত খিলাফত ত্রিশ বছর অব্যাহত থাকবে।

অতঃপর আল্লাহর যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা তাঁর রাজত্ব দান করবেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমাকে সাফীনাহ (রাঃ) বলেছেন, হিসেব করো, আবূ বকর (রাঃ) দুই বছর, ‘উমার (রাঃ) দশ বছর, ‘উসমান (রাঃ) বারো বছর ও আলী (রাঃ) এতো বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি সাফীনাহ (রাঃ) -কে বললাম, এরা ধারণা করে যে, ‘আলী (রাঃ) খলীফাহ ছিলেন না। তিনি বলেন, বনী যারকা অর্থাৎ মাওয়ানের বংশধরগণ মিথ্যা বলেছে।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬৪৬

হাদিসের মান: হাসান সহিহ

আব্দুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, ‘যখন তুমি দেখবে খেলাফত কোনো পবিত্র ভূমিতে (জেরুজালেম) অবতরণ করেছে বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন তুমি মনে করবে যে, কেয়ামত খুব সন্নিকটে এসে গেছে।’ (আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ)

আলেমদের নিকট অনুরোধ – মানুষকে বিভ্রান্ত না করে সত্যি দ্বীন ও খিলাফাহ জানান। জাতি হাদীস, ইতিহাস জানে না তাই আপনাদের ভুল ফাতওয়া মেনে চলছে। যে দিন জাতি জানবে আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আর থাকবে না। বর্তমান সময়ে আমাদের আদর্শ হবে সাহাবী (রা:) ও হুসাইন (রা:) এর মত।

আলীর (রা:) সময় মুসলিমদের পরস্পর যুদ্ধ – সংঘাত হতে মক্কা-মদিনা কে সুরক্ষিত রাখতে তিনি দারুল খেলাফা কুফাতে নিয়ে আসেন। কারণ মক্কা-মদিনা অত্যন্ত পবিত্র ভূমি, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের কারনে এর পবিত্রতা যেন বিনষ্ট না হয়। (পরবর্তীতে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের খেলাফতের সময়, বনু উমাইয়ার রাজত্বকালে মক্কা আক্রমণ হয়েছে, সম্মানহানী হয়েছে।)

প্রকৃত দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হুসাইন (রা). তার প্রিয় নানা রসুলের (সা:) নীতি অনুসরণ করেন। রসুল (সা:) যেমন মক্কা হতে হিজরত করে মদীনায় যান। যেখানে তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও সর্মথক ছিল। রসূল (সা) মদীনা হতে দাওয়াতী ও জেহাদী কার্যক্রমের মাধ্যমে ইব্রাহিম (আ:) এর রেখে যাওয়া তাওহীদ মক্কায় ফিরিয়ে আনেন। তেমনি হোসাইন রা. কুফা যেতে চেয়েছিলেন, ওখানে আহলে বায়াতের অনুরাগী ছিল। হুসাইন (রা:) ঈমানী দৃঢ়তা, দাওয়াতী চেতনায় হয়তো বিপ্লব সৃষ্টি হবে, এই আশাংকায় ইসলামের শত্রুরা তাকে পথে বাধা দেন। ফলশ্রুতিতে তিনি শহীদ হন।

দাওয়াতী কাজে ও সুন্নাহর ফিরানোর পথে বাঁধা, জুলুম – নির্যাতন আসলে প্রয়োজনে জেহাদ করতে হয় হুসাইন (রা:) এই আদর্শ পুনরায় জাগিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েকে (রা:) সাহাবীরাসহ অন্যরা খলিফা নিযুক্ত করেন এবং নয় বছর তার ন্যায় শাসন বিদ্যমান থাকে। হুসাইন (রা) যদি সেদিন মক্কা-মদিনা ফিরে যেতেন উম্মত হয়তো জালেম শাসকের বিরোধিতা করার সাহস ফিরে পেত না।

হুসাইন (রাঃ), আবদুল ইবনে যুবায়ের (রা), ঈমাম আবু হানিফা (রহ:) ও ঈমাম হাম্বল (রহ:) সবাই জালেম শাসকের বিরোধিতা করেন। কেউও স্বৈরাচারী রাজাদের আনুগত্য করেননি বরং জুলুম নির্যাতনের শিকার হোন।

অথচ আজ আমাদের সমাজে এমন কাউকে মুজাদ্দিদ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে – যারা রাজতন্ত্রের সমর্থক, জালেম শাসকের পৃষ্ঠপোষক, উম্মাহকে সুন্নাহ ও খেলাফতের দিকে আহ্বানের বদলে বিভিন্ন বিদআতী কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা/সমর্থন করে গেছেন ও চলছেন।

শেষ মুজাদ্দিদ মাহাদী হাফি ও খেলাফতের দিকে আহ্বান করবে এবং খেলাফত পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিবেন এবং তিনিও আহলে বায়াত হতে আসবেন। তার বিরুদ্ধেও প্রথম সেনা পাঠাবে শাম হতে এক মুনাফেক শাসক। (মুসলিম, আল ফিতান)