কারো মতে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ আবার মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে পাকিস্তান নামক তাগুতী রাষ্ট্রের পক্ষে যারা ছিল তাদেরকেও অনেকে শহীদ অভিহিত করে। কারো মতে বঙ্গবন্ধু শহীদ আবার তার হত্যার সাহায্যকারীও শহীদ।
জিয়াউর রহমানও শহীদ আবার খালিদা জিয়া, শেখ হাসিনা মরলে দলের লোকেরা দেশের জন্য জানমাল বিসর্জন দিয়েছে ঘোষণা করবে। অপরদিকে আলেমরাই ঘোষনা করে ইসলাম না চাইলে, ইসলামী দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আপনি কাফির।
কুখ্যাত সন্ত্রাসী প্রশাসনের গুলিতে মরলো আর তার কবরের ফলকে লিখলো শহীদ। চাদাবাজি নিয়ে দ্বন্দে নিজ দলের হাতে মরলো তাকেও ঘোষণা করলো শহীদ। আলেমরা উভয়ের জন্য জানাজা ও দোয়া করলো। কিন্তু শাহাদাত আসলে কি? কারা শহীদের মর্যাদা পায়? তা উম্মতকে অভিহিত করেনি!
পুরো দেশ জুড়ে আজ শহীদ মিনার, রাস্তাঘাট, বিদ্যালয় সবই নামধারী শহীদের নামে। আলেমরা দীর্ঘদিন ওয়াজ করেছেন কিন্তু প্রকৃত শহীদ কারা আজও জানানো হয়নি। অনেক দলই তাদের মৃত লোকদের শহীদ ঘোষণা করে- তারপর তার মাজার ও মূর্তি তৈরি হয়।
শহীদ হল সাক্ষ্যদাতা যে জান-মাল দিয়ে আল্লাহর দ্বীনের সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
“যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায় আর যারা কুফরী করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। সুতরাং তোমার লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে।” (সুরা নিসা- ৭৬)।
হযরত আবু মুসা (রাঃ) হতে বর্ণিত- “এক ব্যক্তি গনীমতের মাল অর্জনের জন্য জিহাদ করল, একজন নিজের বীরত্ব, সুনামের জন্য জেহাদ করল, এদের মাঝে কে আল্লাহর পথে প্রকৃত জেহাদ করল? রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করার জন্য জেহাদ করল সে প্রকৃত মুজাহিদ।” (সহীহ বুখারি- ২৬৫৫, মুসলিম -৫০২৯)।
উহুদ যুদ্ধের সময় কুযমান নামে এক ব্যক্তি মুসলিমের পক্ষে প্রচন্ড যুদ্ধ করে, একসময় সে আহত হয়, মুসলিমরা বলতে থাকে যে, “হে কুযমান, তুমি আজকে ভীষণ কষ্ট ভোগ করেছ। এর বিনিময়ে পুরস্কারের সুসংবাদ গ্রহণ কর! সে বলল কেমন করে সুসংবাদ নেব, আমি তো লড়াই করছি আমার সম্প্রদায়ের ইজ্জত রক্ষার্থে, তা নাহলে আমি আদৌ লড়াই করতাম না, এক পর্যায়ে ব্যাথায় সে আত্মহত্যা করে, রসুল (সা) পূর্বেই তাকে জাহান্নামী ঘোষনা করেছিলেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া- ৪র্থ খন্ড পৃ-৭৩)।
রসুলের (সা) যুগে কাফেররা বুঝেছিল ঈমান না আনলে, দ্বীন রক্ষায় যুদ্ধ না করলে তার পুরস্কার পাওয়া যায় না। বর্তমান যুগের মুসলিমরাও তা জানে না।
উহুদ দিবসেই মুখায়রীক নামক এক ইহুদি ঈমান আনে, সে তার গোত্রের লোকদের ডেকে বলে, হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! আল্লাহর কসম মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। তারা বলল, আজ শনিবার। সে বলল, তোমাদের কোন শনিবার নেই। সে তার গোত্রকে বলল আমি মরলে আমার সম্পত্তি রসুলুল্লাহ (সাঃ) পাবেন। তিনি শহীদ হন রসুল (সাঃ) তাকে জান্নাতী ঘোষনা করেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া- ৪ খন্ড- ৭৪পৃ)।
যারা ইসলামের পতাকা, আল্লাহর সংবিধান প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে তারাই প্রকৃত শহীদ আর যারা জাতীয়তাবাদী পতাকা, মানবরচিত সংবিধানের জন্য লড়াই করে তারা কিভাবে শহীদ হয়? যারা ৫ ওয়াক্ত সালাত পড়ে, কুরআন শুনে বা তেলওয়াত করে, আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে রসুল (সাঃ) কে আদর্শ মেনে লড়াই করে তারা আর যারা দেশীয় সংগীত, দেশের জয়ের স্লোগান নিয়ে, দেশের নেতাকে আদর্শ মেনে যুদ্ধ করে তারা কি করে এক হতে পারে?!
কেউ যদি জেনেবুঝে এমন দল/নেতার ক্ষমতার জন্য সংগ্রাম করে যে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করবে, সে ক্ষমতায় গেলে মদ, সুদ রাষ্ট্রে বৈধ থাকবে। সে কিভাবে শহীদ হবে! এই যেন মদ পানের অধিকারের জন্য লড়াই করলো অথচ জাতি তাকে শহীদ ঘোষণা দিল।
হা, কোন মুসলিম ভূখন্ডে যদি কাফেররা আক্রমণ করে তখন মুসলিমদের রক্ষার জন্য জেহাদ ফরজ হয় তা হতে হবে ইসলামের পতাকাতলে, কুরআন-সুন্নাহের নিয়ম অনুযায়ী। আর মুসলিমরা পরস্পর দ্বন্দ্ব হলে, ফয়সালা হবে কুরআন অনুযায়ী।
যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে গণতন্ত্রকে অজুহাত বানিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়- তাদের নিয়তও আল্লাহ জানেন। ক্ষমতা বসার আগেই ইয়াজিদ, মারওয়ান ফাসিক ছিলেন। তাই বহু সাহাবী তাদের আনুগত্য করেনি। আর ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা জুলুম, হত্যা করেছিল যারা তাদের জুলুমের প্রতিবাদ করতো।
ইয়াজিদ, মারওয়ানের সেনারা একদিকে আহলে বায়াত, সাহাবী ও তাদের বংশধরদের হত্যা করেছে। অন্যদিকে বহু ভূখন্ড বিজয় করতে গিয়ে মারা গেছে তাদের কি শহীদ মানবেন? তারা এইটুকু ইসলাম মানতেন (সালাত, সিয়াম, হজ্ব, ইসলামী হদ) তাদের ক্ষমতার জন্য সার্ঘষিক নয় বরং তাদের রাষ্ট্র, তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে জিহাদ ও মরলে শহীদ ঘোষণা দিত। আর যে ইসলাম মানলে তাদের প্রকৃত খেলাফাহর অনুগত্য (আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের) করে ক্ষমতা ছাড়তে হবে তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন।
আজও অনেকে গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতা চায়- গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েমের স্বপ্ন দেখিয়ে আজ অনেকে ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যাচ্ছে। আজ আর শরীয়া চায় না, চায় তাগুতী/কল্যাণ রাষ্ট্র। অথচ দাড়ি, টাখনু গিরার ওপর কাপড় নেই, বেপর্দা নারীর সাথে চলাফেরা, কেউ নারী নেতৃত্ব মেনেছে ও জোট হয়েছে, বহু বিদআত ও কেউ কেউ কুফরিতে লিপ্ত।
ওরা যদিও ক্ষমতা পায় – তাহলে ইয়াজিদ ও মারওয়ানের মত শাসনব্যবস্থা হবে যেখানে কিছু ইসলামী আইন থাকবে। কিন্তু শতভাগ শরীয়া চাওয়া মুসলিমদের উপর জুলুম চলবে।
কেউ যদি মনে করে এই যুগে গণতন্ত্র ছাড়া ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়। তাদের বলবো আকীদা বিশুদ্ধ করেন – ইসলাম কায়েম করার জন্য কি আল্লাহ হারামের উপর নির্ভরশীল! যেন এই যুগে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রসুলের (সা:) সুন্নাহ কার্যকর নয় বরং লিংকনের সুন্নাহ অনুসরন বুদ্ধিমত্তা! নাউজুবিল্লাহ!
