বেগম রোকেয়ার সমালোচনা অনেকে করেন। কিন্তু জাতীয় কবি নামে খ্যাত নজরুলের কবিতায় কুফর রয়েছে, শিয়া ধর্মের অনেক বিশ্বাস স্থান পেয়েছে। তার সাম্যবাদ কবিতায় তিনি ধর্ম, কিতাবের চেয়ে মানুষ বড় বুঝিয়েছেন। মূলত তখন বিভিন্ন ধর্মে জাতপ্রথা নিয়ে উচুনিচু ভেদাভেদ করা হতো। তাই নজরুল, লালন মানবধর্ম নামক নতুন মতবাদের আহ্বান করেন। নজরুল ইসলামের ইলম না থাকায় কিছু ভুল করেন। কবর হতে আযান শোনা সম্ভব নয়।
আল্লাহ বলেন-
অতএব, আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না এবং বধিরকেও আহবান শোনাতে পারবেন না, যখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে। [সূরা রূম: ৫২]
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুক জানি না শেষ বয়সে তিনি তওবার সুযোগ পেয়েছিলেন কিনা। মূল আলোচনা কবি বিরোধিতা নয় – বরং এটা বুঝানো মুসলিমদের মাঝে জাতির পিতা, জাতীয় কবি, নারী শিক্ষার অগ্রদূত এই সকল সম্বোধন ছিল না। আর নজরুল ইসলাম প্রেমের কবিতা, গান লিখেছেন। যা ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল নয়, তাকে ইসলামের কবি ও জাতীয় কবি ঘোষণা করা কি ইসলাম ও মুসলিমের জন্য সম্মানের?
অনেক কাফির, বাউল দলিল দেয়- নজরুল যেহেতু গীতি লিখেছে তা ইসলামে জায়িজ নাউজুবিল্লাহ। আমরা কারো বিপক্ষে নয়, বরং ফিতনা নিমূর্লের লক্ষ্যে বিতর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরি। যা সাধারণত মানুষ আলোচনা করে গালি খেতে চায় না।
পশ্চিমা সভ্যতা হতে আমাদের মাঝে জাতির পিতা, জাতীয় কবি, নারী শিক্ষার অগ্রদূত উপাধিগুলো স্থান পায়। পাকিস্তান আল্লামা ইকবালকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে। তার কবিতা ইসলামের বিপ্লব, জিহাদের দিকে আহ্বান করেছিল তেমনি তিনি খলিফা মাহাদী (হাফি), ঈসার (আ:) পুনরায় আগমনকে অস্বীকার করেন।
মূল বক্তব্য হলো যারা ইসলামের কথা বলবে তারা ইসলামের কবি, ইসলামিক বক্তা। আলাদা জাতীয় কবি, জাতীর পিতা, নারী শিক্ষার অগ্রদূত এই সকল পশ্চিমাদের সম্বোধন কি প্রয়োজন যখন সকলের আমল আল্লাহ জানেন।
প্রতিটি মুসলিম নারী ইলম শিক্ষার কথা বলবে। কিছু আলেম দেখলাম –
আয়েশা (রা:) নারী শিক্ষার অগ্রদূত ছিলেন ঘোষণা করছে। এটা সঠিক, তবে নারী শিক্ষার সবচেয়ে বড় অগ্রদূত ছিলেন রসুল (সা:)। ইসলাম প্রতিটি নারী-পুরুষের জন্য ইলম অর্জন ফরজ করেছে। রসুল(সা:) নারী-পুরুষ উভয়ের মাঝে দ্বীনের ইলম ছড়িয়ে দেন। বহু বছর মুসলিম নারীরা পর্দা বজায় রাখে মসজিদে এসে খুতবা শুনতো, সালাত পড়তো ও ইলম শিখতো। মুসলিম নারীরা ইলমহীন জাহিল ছিলেন না। তারা বীর মুজাহিদ, ফিকাহবীদ সন্তান তৈরি করতেন। রাজতন্ত্র ও পরে কুফরী শাসনব্যবস্থা নারীদের ইসলাম শিক্ষা হতে দূরে সরিয়ে আনে।
আমাদের মসজিদগুলো নারীদের খুতবা, ইলম শিখার উপযোগী করে তুলতে হবে। দ্বীনী শিক্ষা ফ্রী, সহজলভ্য করতে হবে। নারীর মাদ্রাসার শিক্ষার নামে নারী-পুরুষ একসঙ্গে ক্লাস ও পুরুষ শিক্ষক দ্বারা পড়ানো বন্ধ করা উচিত। নারীদের নারী দ্বারা দ্বীন শিখানোর ব্যবস্থা করা উচিত।
