নিষিদ্ধ হোক বাউলসহ সকল প্রকার ইসলাম অবমাননার গীতি, বই ও অন্যান্য জিনিস।

বাউলদের ইসলাম অবমাননার ব্যাপারে জাতি কঠোর আলহামদুলিল্লাহ, প্রতিরোধ প্রয়োজন। ইসলাম অবমাননা করলে মুরতাদ হয়ে যায় – ইসলাম অনুযায়ী মুরতাদ, বিবাহিতের পরকিয়া, কালোজদুর শাস্তি একই। কিন্তু নিজ প্রিয় আলেম, শিক্ষকের পরকীয়ার ক্ষেত্রে অনেকে নিরব থাকে। অনেকে তাদের এইসকল কর্মকান্ডকে বৈধ করতে চায়।

তেমনি জাদুর বই আমালী কুরআন আশরাফ আলী থানভী ও তার আরেক বই বেহশতি জেওরের নবম খন্ডে যেখানে নির্লজ্জতা রয়েছে তা বন্ধ করা ফরজ। এই বইগুলো তার নামে রয়েছে। যদি তিনি (যদিও সবাই স্বীকার করে তার লেখা) না লিখে থাকেন তার নামে মিথ্যাচার চলছে। আর তার লেখা হলে তাকে জেনেশুনে হাকীমুল উম্মত বলা কুফরী নয় তো! সাবধান!

আবার অপরদিকে বাউলদের চেয়ে বড় অপরাধ করে চলছে না-স্তিকরা তাদের সাথে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে মধুর আলোচনা চলে। যেখানে না-স্তিকরা প্রায় একই বিষয়বস্তু নিয়ে রসুল (সাঃ)- তার পবিত্র স্ত্রী, সাহাবী ও ইসলামের সমালোচনা করে চলছে। আর একদল আলেম এতে অংশগ্রহণ করে প্রমাণ করতে চাইছে যুক্তি, তর্ক দিয়ে ওদের মুখ বন্ধ করে দিবে, হয়তো তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। এর বাহিরে মুসলিমরা কোন ব্যবস্থা নিলে এসব আলেমরা উগ্রবাদ বলে!!

আপনারা কাদের যুক্তি দিয়ে বুঝাবেন যাদের অধিকাংশ জেনেশুনে দুনিয়ার লোভে বিভ্রান্ত হয়েছে!? আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), উসমান(রাঃ), আলী (রাঃ) এর মত সাহাবীরা যদি জীবিত থাকতো তাহলে তারা জেনেশুনে এমন সভায় অংশগ্রহণ করতেন?? যেখানে রসুলের (সাঃ) চরিত্র নিয়ে সমালোচনা করা হবে! হয়তো তখন কারও সাহসই হতো না!!?

আর তারা কেন অন্য ধর্ম নিয়ে আলোচনা, তর্ক, টকশো করে না। এসব ধর্ম কি ইসলামের চেয়ে যৌক্তিক হয়ে গেল!? নাউজুবিল্লাহ। ইসলামই একমাত্র সত্য দ্বীন। আর কত বছর কত আলেম জবাব দিতে হবে একই প্রশ্নের!?

বিশ্বের প্রায় সবদেশে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাখার পাশাপাশি কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন রাখা হয়!? কারণ তারা জানে যতই সৎ উপদেশ ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হোক না কেন অনেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, নীতি নৈতিকতা মানবে না। সেজন্য তাদের উপর আইনের প্রয়োগ করতে হবে। নাহলে সমাজে অরাজকতা ছেয়ে যাবে। আজ পর্যন্ত কেউ কি বলেছে আইন তৈরি করা উগ্রবাদ আর যারা এই আইনে বিচার করে বা চায় তারা উগ্রবাদী!?

তেমনি ইসলামের নৈতিক দাওয়াত সবার জন্য হলেও সবাই তা গ্রহণ করবে না বরং কিছু লোক ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইসলাম ও নবীর সমালোচনা করবে। তাদের একমাত্র ইসলামী আইন দ্বারা ঠিক করতে হবে।

একদিকে আমরা দেশকে মুসলিম বঙ্গ অভিহিত করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখাবো অন্যদিকে এলাকা, মসজিদের দেওয়ালে শির্কী নামগুলো বিদ্যমান রাখবো হাস্যকর নয় কি!? মসজিদ, মাদ্রাসার নামে দূর্গাপুর, লক্ষীপুর, রামপুর রয়েছে। আজ পর্যন্ত মসজিদ হতে শিরককে মুক্ত করতে পারি নি আমরা। কিভাবে রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবো? দূর্গা ও লক্ষী শিরকী দেবীর নাম আর পুর মানে শহর।

আজ কোন মুসলিম তার সন্তানের নাম যদি দূর্গা, লক্ষী, নারায়ন রাখে তাকে কাফির ফাতেয়া দেওয়ার মানুষের অভাব হবে না। অথচ আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদ ও দ্বীন শিক্ষার স্থান মাদ্রাসার পাশে এসব নাম স্থান পায় তখন সবাই চুপ। অথচ রসুল (সাঃ) ইয়াসরিবের নাম বদলে রাখেন মদীনা তাইয়্যেবা বা পবিত্র স্থান। মক্কা বিজয়ের পর কাবার মূর্তিগুলো ভেঙ্গে পেলেন। মসজিদের সভাপতি অধিকাংশ হলো তাগুতের গোলাম।

অনেকে গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখায় আবার পূজার সময় বিভিন্ন পূজামন্ডল উদ্বোধনসহ ও বিভিন্ন শিরকে সহায়তা করে। আজও আমরা মসজিদ হতে শিরকী নাম বাতিল করতে ব্যর্থ। ওরা অনেকে আমাদের আযান সহ্য করতে পারে না। অনেকে আমাদের কুরআনকে অবমাননা করে।

একদল দরবারী আলেম আছে প্রচার করে – হাসান, হুসাইন, আলী নাম রাখলে নাকি শিয়াদের অতিভক্তির অনুসরন হয় প্রচার করে অথচ এসব শির্কী নাম পরিবর্তন করলে উগ্রবাদী আ্যাখা দেয়। আমরা মসজিদ হতে শিরকী নাম বাতিল করতে ব্যর্থ। অনেকে কুরআন অবমাননা করে তারা ইসলামের প্রতি প্রকাশ্যে ঘৃনা জানাচ্ছে আর কুফরের প্রতি আমাদের ততটা ঘৃনা আসেনি।

আর আমাদের দেশে এমন অনেক মসজিদ আছে যার সভাপতির আকীদায় কুফরী, শিরক বিদ্যামান। অথচ ঈমাম অর্থ নেতা, প্রধান আর সভাপতি অর্থও নেতা, প্রধান। মসজিদের প্রকৃত সভাপতি হলো ঈমামগণ যারা সালাত পড়ান, ও ওয়াজ নসিহতে উম্মতকে পথনির্দেশনা দেন। তথাকথিত সভাপতি কি সালাত পড়াতে পারে না জুমার খুতবা দিতে পারে!? কতটুকু ইসলাম সে জানে ও মানে!?

মূলত এসব সভাপতিগণ মসজিদের হিসাব, টাকা তোলা, ভবন নির্মানের দায়িত্ব পান। যাকে মূলত স্বেচ্ছাসেবক বা কেয়ারটেকার বলা যেতে পারে। কিন্তু এই নামকরণ দিলে অধিকাংশ লোক দেখানো সাহায্যকারী ধনী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ মসজিদের পদ ও দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাইবে না।

যদি সত্যিকারের ইসলাম প্রতিষ্ঠা চান মসজিদ ও ঈমামদের আগে সংস্কার প্রয়োজন -সেখানে প্রকৃত ইসলাম মানলে ও প্রচার হলে রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সহজ হবে