খেয়ালখুশির আইন কার্যকর করা!

“শেষ যুগে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে। যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় ছোট ছোট লাঠি। তারা সকাল বেলা অতিবাহিত করবে আল্লাহ তা’আলার অসন্তুষ্টি নিয়ে এবং বিকেল বেলাও অতিবাহিত করবে তাঁরই অসন্তুষ্টি নিয়ে”। (আহমাদ: ৫/২৫০ হাদীস ২১৫৭৩)

আবূ হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল (সা) ইরশাদ করেন:

“দু’ জাতীয় মানুষ জাহান্নামী। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যকার এক শ্রেণী হলো এমন লোক যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় ছোট ছোট লাঠি। যা দিয়ে তারা মানুষকে অযথা প্রহার করবে”। (মুসলিম, হাদীসঃ ২১২৮)

আবূ হুরাইরাহ (রা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল (সা) ইরশাদ করেন:

“সময় আরো পেরিয়ে গেলে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে দেখতে পাবে যারা সকাল বেলা অতিবাহিত করবে আল্লাহ তা’আলার অসন্তুষ্টি নিয়ে এবং বিকেল বেলা অতিবাহিত করবে তাঁরই লা’নত নিয়ে। তাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় ছোট ছোট লাঠি”। (মুসলিম, হাদীস ২৮৫৭/৫১০৫)

বেশিরভাগ আলেমের মতে তা বর্তমান সময়ের প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর সাথে মিলে যায় যারা সামান্য কারণে বা আতংক সৃষ্টি, ক্রোধবশত মানুষের উপর লাঠিপেটাসহ বিভিন্ন অত্যাচার করে।

ওদের দেখবেন কুরআন বিরোধী আইন, আইন প্রণেতাদের রক্ষা ও নির্দেশ অনুযায়ী কুরআনের প্রেমিকদের উপর অত্যাচার করতে দ্বিধাবোধ করে না।

মনে রাখবেন আমরা সর্তককারী মাত্র।

আল্লাহ বলেন-

তারপর তাকে তার সৎকাজের এবং তার অসৎ-কাজের জ্ঞান দান করেছেন। সে সফলকাম হবে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করবে। (সুরা শামস)

গরীব, অসহায়ের ওপর সামান্য অপরাধে যেভাবে লাঠিচার্জ, নিষ্ঠুর আচরণ করছেন একই কাজ কি প্রভাবশালীদের সাথে করতে পারবেন!? অথচ তারা সুদ, জেনাসহ আরও বড় বড় পাপে লিপ্ত। অথচ সালাত ছেড়ে দেওয়া, সুদ, পরকিয়া মহাপাপ।

একদল রোযার ব্যাপারে কঠোর ঠিকই কিন্তু সালাতের ব্যাপারে নিরব। অথচ সালাত ছেড়ে দিলে মুসলিম থাকে না। শুধু রমাদ্বান নয় সারাবছর সালাত আদায় করতে হয়। আর রমাদানে গরীবের হোটেল বন্ধ করা সহজ কিন্তু দামী হোটেল যেখানে মদ, পতিতা নিয়ে দুর্নীতিবাজ, অসাধুরা হারাম কর্মে লিপ্ত হয়। ওদের বিরোধিতা না করে বরং সুরক্ষা দেওয়া হয়।

অথচ ইসলামের সৌন্দর্য দেখেন বিচার ব্যবস্থা সবার জন্য সমান।

সাঈদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মাখযুমী সম্প্রদায়ের জনৈকা মহিলার ব্যাপারে কুরাইশ বংশের লোকদের খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল যে কিনা চুরি করেছিল। সাহাবাগণ বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কে কথা বলতে পারবে? আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় পাত্র উসামা (রাঃ) ছাড়া কেউ এ সাহস পাবে না।

তখন উসামা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বললেন। এতে তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহ তা’আলার দেওয়া শাস্তির বিধানের ক্ষেত্রে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেনঃ হে মানব মণ্ডলী! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের লোকেরা পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে।

কেননা কোন সম্মানিত লোক যখন চুরি করত তখন তারা তাকে রেহাই দিয়ে দিত। আর যখন কোন দুর্বল লোক চুরি করত তখন তার উপর শরীয়তের শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ এর কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করে তবে অবশ্যই মুহাম্মাদ তাঁর হাত কেটে দেবে। (সহীহ বুখারী -৬০৩১)

আজও মানবরচিত আইন ও নফসের বিধান হতে ফিরে না এসে যতই আমল করুক না কেন – মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *