বেশিরভাগ বক্তাই গুছিয়ে সুন্দরভাবে সত্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ। অথচ রসুলগণ ও ওহীর বানী ছিল এমন – সহজেই গরীব, ধনী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই বুঝতে পারতো।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইংরেজি শব্দের প্রয়োগে বাক্যের শ্রুতিমধুরতা হারিয়ে যায়। এমনটা নয় যে তারা ইংরেজিতে খুবই দক্ষ বা এটা তাদের মাতৃভাষা। প্রয়োজনীয় শব্দের বাংলা শিখাটা জরুরি (যেহেতু মাতৃভাষা) যেন সবাই অর্থ বুঝতে পারে।
ইতিহাস আলোচনায় একটা ব্যর্থতা যা ৯০ ভাগ আলেমই করেন। রাজতন্ত্রকে খিলাফাহ আখ্যায়িত করে।
সাফীনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নবুওয়্যাতের ভিত্তিতে পরিচালিত খিলাফত ত্রিশ বছর অব্যাহত থাকবে। অতঃপর আল্লাহর যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা তাঁর রাজত্ব দান করবেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমাকে সাফীনাহ (রাঃ) বলেছেন, হিসেব করো, আবূ বকর (রাঃ) দুই বছর, ‘উমার (রাঃ) দশ বছর, ‘উসমান (রাঃ) বারো বছর ও আলী (রাঃ) এতো বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি সাফীনাহ (রাঃ) -কে বললাম, এরা ধারণা করে যে, ‘আলী (রাঃ) খলীফাহ ছিলেন না। তিনি বলেন, বনী যারকা অর্থাৎ মাওয়ানের বংশধরগণ মিথ্যা বলেছে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬৪৬
হাদিসের মান: হাসান সহিহ
নু’মান বিন বশীর (র) আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর গোপন বিষয়ের জ্ঞানধারণকারী হুযাইফা (রা) হতে বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শাসকদের সম্পর্কে হাদিস মুখস্থ রেখেছি। তিনি বলেন: “নবুওয়্যাত তোমাদের মাঝে থাকবে, যতদিন মহান আল্লাহ চান, এরপর তিনি তা উঠিয়ে নেবেন যখন তিনি চান। অতপর, নবুওয়্যাতের আদলে খিলাফাহ আসবে এবং তা বিদ্যমান থাকবে যতদিন তিনি চান এবং তিনি উঠিয়ে নেবেন যখন তিনি চান। অত:পর আসবে উত্তরাধিকার সূত্রে রাজতন্ত্র এবং তা থাকবে যতদিন মহান আল্লাহ চান এবং তিনি তা উঠিয়ে নেবেন যখন চান। অতঃপর আসবে চরম জবরদস্তির শাসন, যা থাকবে যতদিন মহান আল্লাহ চান এবং যখন তিনি চান, তা উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর আসবে নবুওয়্যাতে আদলে খিলাফাহ। এর পর তিনি চুপ হয়ে গেলেন। মুসনাদে আহমাদ ১৮৪৩০(৪র্থ খন্ড,পৃষ্ঠা-২৭৩)
জাতি যদি প্রকৃত খিলাফাহ নাই চিনে- রাজতন্ত্রকে ইসলামী শাসন ভেবে খলিফা মাহাদীকে (হাফি) খারেজী ভাববে। আর এই সুযোগে অনেকে মিছিল, মিটিং আন্দোলন করে খিলাফাহ কায়েমের নামে ধোকাবাজি করবে। যেন তারা বুঝাতে যাবে – খিলাফাহ আসবে জালেম শাসকের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার মাধ্যমে, তাদের অনুগ্রহে। এর বাহিরে কোন সংগ্রাম করলে উগ্রবাদী বলবে।
অথচ এমন ব্যক্তিরা কেন ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে চাইবে – যাদের আয়ের উৎস সুদের ব্যবসা তা ইসলামী নামে ব্যাংক হলেও ইনসুরেন্স, বিলাসবহুল হোটেল যেখানে পাপাচার হয়। কারণ প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
খিলাফাহ হলো মুসলিম উম্মাহর একক রাষ্ট্র, যার প্রধান খলিফা। খুলাফাহে রাশেদীন বললে অনেকে হাসান (রা:) এর নাম বাদ দেয়। আর আহলে বায়াতের সংগ্রাম ও ফজিলত এড়িয়ে চলে, অনেকে হয়তো জানেই না।