আপনার নামের অর্থ জানেন তো?

এদেশ বহু জাতি শাসন করেছে, প্রবাসীরা বহু দেশে ভ্রমণ করেছে। অনেকে এসব জাতির, ধর্মের, দেশের মানুষের নামগুলো শখের বশে রেখেছে যার অর্থ ইসলামের সাথে সাংর্ঘষিক।

বৈশাখী- সম্রাট্র আকবর দ্বীনী এলাহি ধর্ম চালু করে এবং নতুন ধর্মমতে হিজরি সালের বদলে নতুন মাস ও সাল চালু করে। হিন্দুদের বিশাখা দেবী, নক্ষত্র নামকরনে বৈশাখ নাম রাখা হয়। আর বৈশাখী নাম এদেশে প্রচলিত যার অর্থ ও সম্পর্ক বিশাখা দেবী বা নক্ষত্রের সাথে।

রাজন- সাধারণত হিন্দু ক্ষত্রিয় রাজাদের রাজন বলা হয়। যারা হিন্দু ধর্মমত অনুযায়ী শাসন করতো। আর মুসলিমদের খলিফা না হলে কাউকে খলিফা ডাকা হতো না। রাজা, বাদশাহ, শাহানশাহ নামগুলো মুসলিমদের মাঝে পরবর্তীতে প্রবেশ করে।

শাহানশাহ অর্থ পৃথিবীর রাজা বা রাজাদের রাজা যা ফার্সি শব্দ আরবি মালিকুল মুলক শব্দের সমার্থক যা আল্লাহর সিফাত। তেমনি আলমগীর ফার্সি শব্দ যার অর্থ সমগ্র জগতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বা বিশ্বজয়ী। এরকম সম্মান/উপাধি আসলে শুধু রসুল (সা:) পাওয়ার যোগ্য। মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ‘আলমগীর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল, যার অর্থ “বিশ্বজয়ী”।

জনি- জনি হিব্রু শব্দ। যার অর্থ ঈশ্বরের করুণাময়। ইহুদিদের ঈশ্বর নিয়ে শির্ক রয়েছে সুতরাং এমন নাম কতটা যৌক্তিক?

নাতাশা- দেশ বিভাগের পর হতে এদেশে রাশিয়ান লেখকগণের লেখা খুব জনপ্রিয় হয়। লিও টলস্টয়, ফিওদর দস্তয়েভস্কি, মাক্সিম গোর্কি আন্তন চেখভের বই অনেকে পড়ে। ওদের হতে অনুপ্রানিত হয়ে রাশিয়ান নামগুলো এদেশে জনপ্রিয় হয়। যেমন রাশিয়ান ভাষায় নাতাশা অর্থ ‘ক্রিসমাসের দিনে জন্ম’ বা ‘প্রভুর (যিশু) জন্মদিন।

পুতুল- আমাদের সমাজে এমন উদাহরণ দেওয়া হয় – মেয়েটি পুতুলের মতো সুন্দর। মানুষ ও পশুর পুতুল নিষিদ্ধ, যা শয়তানের কৌশল। আল্লাহ মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর রূপে সৃষ্টি করেছেন। তাহলে জড় বস্তুর নামকরণ কীভাবে সুন্দর, যখন আল্লাহর সেরা সৃষ্টি, জীবন্ত মানুষ?

পরী- পরী বলতে কি বোঝায় সেটাই অদ্ভুত!! অনেকের মতে জিনদের স্ত্রী লিংঙ্গ পরী। অথচ মানুষ সুন্দর ও সেরা সৃষ্টি। তাহলে মানুষ হয়ে জিনদের নাম কেন রাখা? নবীদের স্ত্রী, মা, মেয়ে, বোন সবাই ছিল নারী বা মানুষ হতে। ওদের হতে শ্রেষ্ঠ কে আছে। বরং এমন জানা যায় দ্বীনদার নারী জিনদের নাম- মারিয়াম, আছিয়া, খাদিজা, ফাতেমা রাখে ও এসব নারীদের আদর্শ মেনে চলে। আল্লাহ বলেন-

‘আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা যারিয়াত: আয়াত ৫৬)।

আবার শেখ মুজিবকে পছন্দ করার কারণে অনেকে তার ছেলের নাম অনুযায়ী রাসেল নাম রাখে যার অর্থ লালচুল। এ রকম বহু নাম, বহুভাবে এদেশে প্রচলিত আছে যার সবগুলো অর্থ জানাও সম্ভব না।

নিজেদের নামগুলোর অর্থ জানুন, ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হলে পরিবর্তন করুন।