বাউল কান্ড (ঈমান ও কুফরের ক্ষেত্রে কেন ভিন্নতা?)

মুসলিম হবার পর আল্লাহ, তার রসুল (সা:), কিতাব ও ইসলাম নিয়ে পরিহাস, অস্বীকার করলে মুরতাদ হয়ে যায়। ইসলামে এর বিধান কঠোর। যে সকল ভাইয়েরা ইসলামকে ভালোবেসে বাউলসহ যারা ইসলামকে উপহাস করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছে – এটা তাদের ইসলামকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। একে উগ্রবাদী মনেভাব মুসলিম ভাবতে পারে না। জালিম হাসিনার বিরুদ্ধে যারা প্রতিরোধ করেছে তাদের জুলাই যোদ্ধা ঘোষণা করা হয়েছে, উগ্রবাদী নয়। কিন্তু হাসিনার রেখে যাওয়া আইন, জালিম প্রশাসন ঠিকই আছে। এর বিরোধিতা করলে উগ্রবাদ কেন হবে?

তেমনি মূর্তিপূজার শুভেচ্ছা দিলে, রসুলকে (সা) নিয়ে কটুবাক্য, জেনেশুনে মিথ্যাচার করে শির্ককে জায়িজ করার প্রচেষ্টা করলেও মুরতাদ হয়। ইসলাম অনুযায়ী উভয়ের শাস্তির একই বিধান। সাহাবীরা যেমন যাকাত অস্বীকারীর বিরুদ্ধে জিহাদ করেছে একই সময় ভন্ড নবীর অনুসারীদের সাথেও জিহাদ করেছে। দুটোই জায়িজ ছিল, আছে ও থাকবে। তাহলে বাউলের বিরোধিতা করলে ঈমানদার, বাহবা মিলবে আবার তথাকথিত ইসলামী দলসহ, গণতান্ত্রিক কুফরী দলের মূর্তিপূজার শুভেচ্ছা দেওয়া মুরতাদের বিরোধিতা করলে উগ্রবাদ কেন ভাবা হবে?

ঈমান ও কুফরের সীমারেখা আল্লাহ সুস্পষ্ট করেছেন। নিজেদের দল, নেতার দ্বীন মানতে গিয়ে এই সীমারেখা অনেকে বদলে ফেলছে। কুরআনে বর্নিত হয়েছে – মুসার (আ:) জাতি মূর্তিপূজায় অংশগ্রহণ করায় মুরতাদ হওয়ায় তাদের জন্য মৃত্যুর বিধান এসেছিল। মুসলিমদের জন্য নিষেধ করা হয়েছে পূজার স্থানে যাওয়া। এতে শির্কের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে বা অপসংস্কৃতির দিকে যেতে পারে। যে রকমটা মুসা (আ:) জাতির সময় হয়েছিল।

কুরআনে বর্নিত-

আমি (আল্লাহ) সাগর পার করে দিয়েছি বনি ইসরাইলকে। এরপর তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌঁছাল, যারা স্বহস্ত নির্মিত মূর্তিপূজায় নিয়োজিত ছিল। ইহুদিরা বলতে লাগল- ‘হে মুসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতোই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন।’ মুসা বললেন, ‘তোমরা তো বড়ই মূর্খ। এরা (মূর্তিপূজক) ধ্বংস হবে, এরা যে কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং যা কিছু তারা করেছে তা ভুল! তাহলে কি আল্লাহকে ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোনো উপাস্য অনুসন্ধান করব? অথচ তিনিই তোমাদেরকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।’ (সূরা আরাফ : ১৩৮-১৪০)।

তুর পাহাড়ে ওঠার আগে বনি ইসরাইলের সাথে এক জনপদের দেখা হলো, সেখানে তাদের দেবদেবীর পূজা করতে দেখল, মিসরীয়দের মতো। তাতে তাদের মনেও দেবদেবী পূজার শখ জাগল।

“এবং যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে ঘোর অনাচার করেছ, সুতরাং তোমরা তোমাদের স্রষ্টার দিকে ফিরে যাও এবং তোমরা নিজ নিজ প্রাণ উৎসর্গ কর। তোমাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় বা কল্যাণকর। তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াময়।” (আল বাকারা, ৫৪)

তুর পাহাড় থেকে ৪০ দিন পর হযরত মূসা (আ.) যখন ফিরে এলেন, তখন তিনি দেখলেন তার জাতি গরুর বাছুরের পূজা করছে। এই আয়াতে মূসা (আ.) এর সম্প্রদায়কে দু’টি বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রথমত: তাদেরকে এটা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় যে, তোমরা এ কাজ করে নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছ এবং বাছুরকে উপাস্য করে মানুষের মর্যাদা ও সম্মানকে পদদলিত করেছ।
দ্বিতীয়ত: তোমাদের অপরাধ কুফরী। কারণ তোমরা সত্যকে উপলব্ধি করে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করার পর পুনরায় তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ। এ ভাবে তোমরা কট্টর বা চরম অবিশ্বাসী হিসাবে মূর্তাদ হয়ে গেছ। আর মূর্তাদ হবার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড বা প্রাণহরণ।

মহান আল্লাহ দয়া ও করুণার আধার। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি মানবজাতির একজন আন্তরিক ও কল্যাণকামী অভিভাবক। তাই আল্লাহ মাঝে মধ্যে তিরস্কার ও কঠিন শাস্তির মাধ্যমে অন্যদেরকে এ শিক্ষা দিতে চান যে, ধর্ম নিয়ে কেউ যেন হেলা-ফেলা না করে এবং এভাবে আল্লাহ সমাজকে নোংরা ও অপছন্দনীয় কাজ থেকে মুক্ত করেন। মূর্তি পূজা ও গরুর বাছুর পূজা এমন কোন সাধারণ বা ছোট-খাট অপরাধ নয় যে শুধু মৌখিক ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমেই ক্ষমা লাভ করা যেতে পারে। বিশেষ করে কোন সম্প্রদায়ের এ ধরনের অপরাধকে সহজেই ক্ষমা করা যায় না, যারা আল্লাহর নিদর্শনগুলো দেখেছিল এবং আল্লাহর অনেক নেয়ামত বা অনুগ্রহ ভোগ করে তার প্রতি বিশ্বাস বা ঈমানও এনেছিল। আর আইনগুলো তখন কার্যকর হয়েছিল যখন ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, ফিরআউনের পতনের পর। যখন জাতির নিকট শির্ক, কুফর সুস্পষ্ট হয়েছিল দাওয়াহর ফলে।

সুতরাং ঈমানদার সকল কুফরের বিরোধিতা করবে। তার জন্য  কোন দল, নেতা, আলেমের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান করতে হলে সে তাই করবে। কারণ কোন দল, নেতা, আলেমের নয় বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রসুলের (সা:) আদর্শ অনুসরণ তার জীবনের লক্ষ্য হবে।