বহু বিবাহ নামে বাড়াবাড়ি বন্ধ করুন!


বহু বিবাহ হালাল সন্দেহ নেই. কিন্তু অনেকে এমন বক্তব্য দিচ্ছে যে ওরা মহান শক্তিশালী পুরুষ, এই যুগে বহু বিবাহ না করলে জিনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত হবে। এভাবে ওরা ইসলাম ও মুসলিমের চরিত্র হেয় করছে। তাহলে বিবাহের পূর্বে তাদের চরিত্র কেমন ছিল দেখার বিষয়।

জাহেলী সমাজেও ইউসুফ (আঃ) এর উত্তম চরিত্র ছিল। কেউ আছে কি বর্তমানে মুসাব বিন উমায়েরের (রা) মত উত্তম দাঈ ও সুর্দশন। ইসলামের তিন জন বীর সেনার একজন ছিল যুবায়ের (রা), আর উত্তম দাঈ ও মুজাহিদ ছিলেন জাফর (রা)। তাদের একাধিক স্ত্রী ছিল না, এরকম বহু সাহাবী পাবেন। ওরা বহু জিহাদে আগ্রগামী ছিলেন ও শহীদ হয়েছেন। আপনারা কি তাদের চেয়ে শক্তিশালী? নাউজুবিল্লাহ!

ইসলামে কিছু নারীর সম্মান ছিল অনেক বেশি- যেমন, খাদিজা (রা) জীবিত থাকা অবস্থায় রসুল (সা:) দ্বিতীয় বিবাহ করেননি।
ফাতিমা (রা:) বেচে থাকতে আলী (রা:) ২য় বিবাহ করেননি। আবু বকরের (রা:) কন্যা আসমা (রা) কে বিয়ে করেন ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর রসুলের (সা:) ফুফাতো ভাই যুবায়ের (রা)।
আর রসুল (সা:) সহ সাহাবীরা বহু বিবাহ করেন মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্রে, মক্কার জাহেলী রাষ্ট্রে নয়।

একটা মূল ব্যাপার হল রসুল (সাঃ) ও সাহাবীরা একাধিক বিয়ে করেছেন বেশিরভাগই মদীনার জীবনে মক্কা জীবনে নয়। মক্কা জীবনে তাদের তো জীবনের নিরাপত্তাই ছিল না। নির্যাতন, অভাব, অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। কাফেররা তাদের কন্যা দিবে কি উল্টো রসুলের (সাঃ) দুই কন্যাকে তালাক দিয়ে দেন ইসলামের সাথে শত্রুতা প্রদর্শন করে এবং সুমাইয়াকে (রাঃ) প্রকাশ্যে যৌনাঙ্গে বর্শা নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়।

সঠিক দাওয়াত দেওয়ার ফলে হয়তো হিজরত ও জেহাদ ফরজ হয়ে যাবে। আর মদীনায় জিহাদ শুরু হলে সাহাবীরা শহীদ হতেন। তাদের বিধবা স্ত্রী, বোন, মেয়ের ভরনপোষন, নিরাপত্তার জন্য অন্য সাহাবীরা বিয়ে করতেন। আর একজন শহীদের স্ত্রীকে মুজাহিদ ছাড়া অন্য কারো সাথে বিয়ে দেওয়া হতো না। আর সকল নেককার ও সুস্থ সাহাবী ছিল মুজাহিদ।

আপনারা থাকবেন জাহলী রাষ্ট্রে – উম্মতকে হিজরত ও জিহাদের ওয়াজ করবেন আবার অধিক বিবাহের ফজিলত বর্ননা করবেন  হিজরত, কারাবাসের সময় স্ত্রীদের কোথায় রাখবেন, শত্রুদের হাতে কি!?