প্রবাসে থাকলে কত রকম খাওয়ার শখ জাগে। তাজা দেশীয় মাছ, ফল, তরকারি খাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও কর্ম ব্যস্ততা, অর্থনৈতিক কথা চিন্তা করে খাওয়া হয় না। আবার দেশে আসলে সবকিছু সহজলভ্য ও ক্রয়ের ক্ষমতা থাকলেও বিবেকে বাঁধে।
চারপাশে শত শত অভুক্ত মুখ, গৃহহীন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও টোকাই। ওদের মাঝে খাবার বিলাসীতায় হাজার হাজার টাকা অপব্যয় করতে বিবেকে লাগে। না, অন্যদের মতো শহর/গ্রামের নতুন দালান, বিলাসী রেষ্টুরেন্টের দিকে তার নজর থাকে না, তার নজর আজও লেগে থাকে ক্ষুধার্ত, অসহায় মানুষগুলোর দিকে।
যখন নিজ দেশের উদ্দেশ্য রওনা দেয় তখন পরিবার, পরিজন ও স্বজনরা একটা লিস্ট ধরিয়ে দেয়। পকেট খালি করে, লাগেজ ভর্তি করে সেগুলো কিনে আনতে হয়। আবার নিজ দেশে এয়ারপোর্টে লাগেজ চুরি, করের জন্য হেনেস্তা করা হয়।
আহ! প্রবাসী যেন কোন দেশের নয়। মুসলিম দাবিদার আরব শাসকরা আকামা নামক কর, জিজিয়া জুলুম চাপিয়ে দেয়। অথচ আরবদেশে জন্মগ্রহণ করা নুসাইরিয়া, রাফেজী, ড্রুজদের আকামা লাগবে না। কারণ জন্মসূত্রে তারা আরবীয় আর আমরা তাদের দৃষ্টিতে মিসকিন দেশের নাগরিক।
আহ! অথচ মুসলিমরা পরস্পর ভাই ভাই।
প্রতিটি মুসলিমের অধিকার সমান আর যদি আমরা তাদের দেশে মজলুম, মুসাফির হই তাহলে অধিক অতিথিপরায়ন ও মহাব্বতের পাওয়ার কথা ছিল। তাদের নারীদের গরীব দেশের মুসলিমের সাথে বিয়ে দিবে না। অথচ মক্কার মুসলিমরা যখন মদীনায় এসেছিল তখন মদীনার আনসারদের উদারতা আজও বিশ্ববাসীর নিকট উদাহরন হয়ে রয়েছে।
মদীনায় রাষ্ট্রে মক্কা-মদীনা, ইয়েমেন, পারস্যবাসী মুসলিমদের নাগরিক অধিকারে কোন পার্থক্য ছিল না। বরং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করায় নিজ রাষ্ট্রের ইহুদিদের বের করে দেওয়া হয়েছিল।
আজ মুসলিমদের উপর আকামাসহ বহু বৈষম্যের জুলুম চলে আবার কাফেরদের প্রতি উদার মনোভাব (ঘাটি করতে দেওয়া হয়েছে মুসলিমদের উপর হামলা করা যায়)। অথচ মুসলিমদের অর্থনীতি চলবে – যাকাত, উসুর, গনিমত ও জিজিয়া দ্বারা। আজ আকামা হচ্ছে অন্যদেশের মুসলিমের উপর জিজিয়া।
বিবাহের ভিত্তি ছিল – তাকওয়ার ভিত্তিতে। আরব ও অনারব, বংশ নয় বরং মুসলিম পরিচয়ে বিবাহ হতো। আজ এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা – ওদের নারীদের বিবাহ করা যায় না। আবার ভিসা জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যায়ের কারণে স্ত্রী এনে প্রবাসে রাখা অধিকাংশের সম্ভব হয় না। ফলে স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের দূরে থাকা বহু ফেতনা ও সমস্যার সৃষ্টি হয়।
হাদিস শরিফে এসেছে, যায়দ বিন আলমাস (রহ.) বলেন,
‘এক রাতে হযরত উমর (রা.) জনগণের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য প্রহরী বেশে বের হয়ে গেলেন। এক বাড়ির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তিনি ঘর থেকে নারী কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি শুনতে পেলেন। ঘরের ভিতর এক মহিলা কবিতা আবৃত্তি করছিল। যার অর্থ হলো, রজনী দীর্ঘ হয়েছে এবং তার এক পার্শ কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেছে। এদিকে দীর্ঘদিন যাবত আমার প্রেমাস্পদ আমার কাছে নেই যে, তার সাথে আমি আমোদ-প্রমোদ করব। আল্লাহর শপথ! যদি এক আল্লাহর ভয় না থাকত তাহলে এ খাটের চার পাশ নড়ে উঠত।
যখন ভোর হলো হযরত উমর (রা.) রাতের কবিতা আবৃত্তিকারিণী মহিলাকে ডেকে আনার নির্দেশ দিলেন। মহিলা খলিফার দরবারে এসে উপস্থিত হলে হযরত উমর (রা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি গত রাতে এ-জাতীয় কবিতা আবৃত্তি করেছিলে? মহিলা বলল,হ্যাঁ।
উমর (রা.) বললেন কেন? উত্তরে মহিলা বলল, দীর্ঘদিন যাবত আমার স্বামী জিহাদের ময়দানে রয়েছে। অথচ এমুহূর্তে তার নৈকট্য পাওয়া আমার একান্ত কাম্য ছিল, তার বিরহেই আমি এমনটি করেছি৷ হযরত উমর (রা.) এ কথা শুনে তখনই ঐ মহিলার স্বামীর নিকট ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়ে শাহী ফরমান প্রেরণ করলেন।
এরপর তিনি তার কন্যা হযরত হাফসা (রা.) এর নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমার মেয়ে! নারীরা তাদের স্বামী থেকে কতদিন পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারে? (প্রজাদের স্বার্থ রক্ষার ইচ্ছা যদি না হত তবে আমি তোমার নিকট এরুপ প্রশ্ন করতাম না) তখন হাফসা (রা.) বললেন, মেয়েরা তাদের স্বামী থেকে চার মাস পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারে। এরপর থেকে হযরত উমর (রা.) চার মাস পরপর মুজাহিদ বাহিনীকে ফেরত নিয়ে আসতেন এবং নতুন বাহিনী পাঠিয়ে দিতেন।’ -(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস: ১২৫৯
একদিকে অন্যদেশে আমাদের দেশের পাসপোর্টের মূল্যায়ন নেই। নিজ দেশে দেশীয় পাসপোর্টের লোকগুলোকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়, অন্যদেশের নাগরিক, পাসপোর্টধারীদের অধিক মূল্যায়ন করা হয়।
একজন প্রবাসী যে দুদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করে অথচ দুদেশের মানুষের কাছে অবহেলিত। নিজ দেশে হালাল কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে অন্যদেশে কর্ম করতে হয়।
আবার অন্যদেশে আদর্শ ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয় নাই তাই বৈষম্য করা হয়। একটা প্রকৃত ইসলামী রাষ্ট্রের অভাব সদা অনুভূত হয়।
