অসুস্থ বিধর্মী বা তাগুত নেতা-নেত্রীর প্রতি মুসলিমের কর্তব্য!

সুলাইমান ইবনু হারব (রহঃ)— আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী বালক নবী (সাঃ) এর খিদমাত করত। সে একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (সাঃ) তাকে দেখার জন্য আসলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসে তাকে বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, সে তখন তার পিতার দিকে তাকাল, সে তার কাছেই ছিল, পিতা তাকে বলল, আবুল কাসিম (রসুলের কুনিয়াত) এর কথা মেনে নাও। তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল।

নবী (সাঃ) সেখান হতে বের হয়ে যাওয়ার সময় ইরশাদ করেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিলেন (বুখারী ১২৭৩)। কোন ব্যক্তি সারাজীবন শিরক করে মুসলিম হওয়ার পর তার সকল গোনাহ ক্ষমা করা হয় আর কোন মুসলিম মহামারীতে মরলেও তার জানাজা পড়ানো হতো ও দাফন হতো (বুখারী১২৮৪)।

একই জিনিস তাগুত শাসক, নেতাদের জন্য প্রযোজ্য।

তাদের হিদায়েতের পথে দাওয়াহ দিতে হবে আগে ও দোআ করতে হবে যেন হিদায়ত পায়। কিন্তু তা না করে তাদের দীর্ঘ হায়াত কামনা- ফিরআউন, নমরুদের দীর্ঘ হায়াত কামনা করার মত হবে। যারা ক্ষমতা পেলে, বেচে থাকলে মানবরচিত আইন চাপিয়ে দিবে, এই আইন ফিরআউনের মত মুসলিমদের উপর জুলুম করবে।

তাদের বেচে থাকার দোয়া নেক হায়াত কিভাবে হয়? আজ মুজিব, হাসিনার জন্য দোআ করেন অনেকে আপনাকে তাকফীর করবে। যদিও ক্ষমতা থাকা অবস্থায় বহুজন করেছে, কিন্তু আজ তিনি ফিরআউন। তাহলে একই আইন পরিচালনা, প্রায় সমপরিমাণ জুলুম করে অন্যদের জন্য দোয়া কেন বৈধ হলো? আপনারা তাদের কুফর, পাপগুলো জাতির কাছে তুলে ধরেন। তখন দেখবেন তাদের সমর্থকরা দোয়া নিতে আসে নাকি জুলুম, সমালোচনা করে।

আর প্রতিটি মানুষের জন্য হিদায়েতের দাওয়াহ ও দোয়া প্রয়োজন। শত বস্তিবাসী, গরিব দুস্থ বিপদে আছে আমরা কতটুকু সাহায্য ও দোয়া করি। তাহলে কি বিশেষ অবদানে বিশেষভাবে নেতা-নেত্রীর দ্বারা দোয়া করা হচ্ছে – তারা মানুষকে শির্ক বিধানের দিকে ডেকেছেন! প্রতিষ্ঠা করেছেন এজন্য। একদিকে ইসলামী রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখাবেন অন্যদিকে কুফরি রাষ্ট্র গড়ার লোকদের জন্য দোয়া কামনা করবেন যেন সুস্থ হয়ে কুফর প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে।

একদিকে পর্দার ওয়াজ করবেন অন্যদিকে বেপর্দা নারীকে নেত্রী ও সম্মান দিবেন। আপনাদের চরিত্র দাইয়্যুসের মত হয়ে গেল যেন- ইসলাম বিরোধীরা যুগ যুগ ধরে রসুল (সাঃ) ও তার স্ত্রীগণকে সমালোচনা করে চলছে। কারো তেমন প্রতিবাদ ও তেমন দুঃখবোধ নেই, নূন্যতম চোখের পানিও আসে না। অথচ তথাকথিত নেত্রীকে মা ডাকে, কত মায়া কান্না দেখায়। আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র নারীদের আমাদের মা হিসেবে ঘোষণা করেছেন অথচ আজ অনেকে পাপীদের মা পরিচয় দিয়ে গর্বিত হয়।

তাদের বিভিন্ন প্রশংসা করে গর্বিত হয়, অথচ উম্মতের মায়ের কথা ভুলে যায়। তারা রসুল ও নবীদের স্ত্রীগণের চেয়ে পাপী নেত্রীদের প্রাধান্য ও সম্মান দিয়ে কুফরে লিপ্ত। বেপর্দা নারীকে মা বলে অভিহিত করা নিজেকে দাইয়্যুস দাবী করা একই আর দাইয়্যুস কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (মুসনাদে আহমদ)

আল্লাহ রসুলগণকে পাঠিয়েছেন জাহান্নাম হতে সতর্ক ও জান্নাতের সুসংবাদ দিতে। আজ মানবতার নামে যারা ওদেরকে দাওয়াত না দিয়ে ওরা মরলে ওদের শিরকী নীতিতে পুড়ানোকে ইসলামের উদারতা প্রমাণ করতে চাইছেন তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে আছেন। যিনি মানবের স্রষ্টা তিনি মানবতা জানেন না তাহলে কি সৃষ্ট সাধারণ মানুষ জানে? সত্যিই যদি ইসলামের উদারতা দেখাতে চান ওদের দাওয়াত দিন। মৃত্যু নির্দিষ্ট তা আসবে তা মহামারী বা অন্যকিছুতে হোক। যদি তাগুত নেতা-নেত্রী, কাফিরের কল্যাণ চান তাহলে দাওয়াহ দেন।

দুনিয়ার সামান্য আযাব হতে জাহান্নাম অনেক কঠিন। আর এর হতে নিজে বাচুন ও অন্যকে বাচানোর জন্য চেষ্টা করুন। কিন্তু দাওয়াহ দিলে আঘাত আসতে পারে, সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে, সে ভয়ে চুপ থাকলেন আর নিজ নিরাপত্তার জন্য ওদের জন্য বন্ধুভাব দেখালেন। তাহলে তারা আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করেনি, কেয়ামতের দিন হিসাব দিতে হবে। আর সকল বিপদ হতে রক্ষা করার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।